০২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

ফ্লাই দুবাইয়ের সেই ফ্লাইটে বড় নিরাপত্তা প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্লাই দুবাইয়ের আলোচিত সেই ফ্লাইটের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ফ্লাইটটির পাইলট ও ক্রুদের পরিচয় এবং আনুষঙ্গিক তথ্য আগেই ইসরায়েলকে পাঠিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোয়েন্দা সংস্থা। এসব তথ্য পাওয়ার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফ্লাইটটিকে ছাড়পত্রও দিয়েছিল।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, হামলার পরিকল্পনাকারী ওমানি কো-পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি কীভাবে নিরাপত্তা যাচাই পেরিয়ে তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেলেন।

ফ্লাইটে হামলার চেষ্টা

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইট। উড়োজাহাজটিতে ছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু। এর পাইলট ছিলেন ভারতীয় নাগরিক স্মিত মাচ্ছার এবং কো-পাইলট ছিলেন ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামি।

তদন্তে উঠে এসেছে, হাম্মামের পরিকল্পনা ছিল বিমানটি তেল আবিবের কোনো বহুতল ভবনে আছড়ে দেওয়া। সৌদি আরবের আকাশে থাকা অবস্থায় তিনি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন।

তবে সহ-পাইলট স্মিত মাচ্ছার তাকে বাধা দেন। এ সময় দুই পাইলটের মধ্যে ককপিটে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে হাম্মাম ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে স্মিতকে আঘাত করেন।

পরে বিমানের ভেতরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন যাত্রী এগিয়ে এসে হাম্মামকে কাবু করেন। এরপর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

আগেই দেওয়া হয়েছিল পাইলটদের তথ্য

তদন্তসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ফ্লাইট ছাড়ার আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলকে পাইলট ও ক্রুদের বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়েছিল। এসব তথ্যের মধ্যে তাদের জাতীয়তাসহ বিভিন্ন পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ছিল।

তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই সময় বিমানে থাকা কারও বিষয়ে কোনো সতর্কবার্তা বা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, হাম্মামের অতীত সম্পর্কে তথ্য থাকার পরও কেন তাকে নিরাপত্তা যাচাইয়ে শনাক্ত করা যায়নি।

ওমানে পাইলট হিসেবে নিষেধাজ্ঞা ছিল

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ওমানে হাম্মামকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এরপরও তিনি ফ্লাই দুবাইয়ে চাকরি পান।

এই তথ্য সামনে আসার পর হাম্মাম কীভাবে আন্তর্জাতিক একটি বিমান সংস্থায় কো-পাইলট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলেন এবং ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেলেন, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে ওমানের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কে দিয়েছিল ছাড়পত্র?

ফ্লাইটের যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্ব কার ছিল, তা নিয়েও ইসরায়েলে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট জানিয়েছে, যাত্রীদের তালিকা যাচাইয়ের বিষয়টি দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তবে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ওই যাত্রী তালিকা বা কোনো সতর্কবার্তা পায়নি।

কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদান একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। তবে আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

একাধিকবার ইসরায়েলে এসেছিলেন হাম্মাম

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাই দুবাইয়ে কাজ শুরুর পর গত কয়েক মাসে হাম্মাম বেশ কয়েকবার বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে এসেছিলেন।

তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, জুনে ইসরায়েলে আসার সময় তার মূল উদ্দেশ্য ছিল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং হামলার পরিকল্পনা করা।

প্রাথমিকভাবে জুলাইয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন। কারণ, বিমানের একজন ক্রু সদস্যের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

চলছে যৌথ তদন্ত

ঘটনার পর ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে তদন্ত করছে। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও ঘটনার বিষয়ে তথ্য দিচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি তদন্তকারীরা হাম্মামকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। বরং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন তারা।

ফ্লাইটটির পাইলট ও ক্রুদের তথ্য আগে থেকেই ইসরায়েলের কাছে থাকার পরও কীভাবে হাম্মাম নিরাপত্তা যাচাই পেরিয়ে গেলেন, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফ্লাই দুবাইয়ের সেই ফ্লাইটে বড় নিরাপত্তা প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০১:২০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ফ্লাই দুবাইয়ের আলোচিত সেই ফ্লাইটের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ফ্লাইটটির পাইলট ও ক্রুদের পরিচয় এবং আনুষঙ্গিক তথ্য আগেই ইসরায়েলকে পাঠিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোয়েন্দা সংস্থা। এসব তথ্য পাওয়ার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফ্লাইটটিকে ছাড়পত্রও দিয়েছিল।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, হামলার পরিকল্পনাকারী ওমানি কো-পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি কীভাবে নিরাপত্তা যাচাই পেরিয়ে তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেলেন।

ফ্লাইটে হামলার চেষ্টা

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইট। উড়োজাহাজটিতে ছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু। এর পাইলট ছিলেন ভারতীয় নাগরিক স্মিত মাচ্ছার এবং কো-পাইলট ছিলেন ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামি।

তদন্তে উঠে এসেছে, হাম্মামের পরিকল্পনা ছিল বিমানটি তেল আবিবের কোনো বহুতল ভবনে আছড়ে দেওয়া। সৌদি আরবের আকাশে থাকা অবস্থায় তিনি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন।

তবে সহ-পাইলট স্মিত মাচ্ছার তাকে বাধা দেন। এ সময় দুই পাইলটের মধ্যে ককপিটে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে হাম্মাম ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে স্মিতকে আঘাত করেন।

পরে বিমানের ভেতরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন যাত্রী এগিয়ে এসে হাম্মামকে কাবু করেন। এরপর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

আগেই দেওয়া হয়েছিল পাইলটদের তথ্য

তদন্তসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ফ্লাইট ছাড়ার আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলকে পাইলট ও ক্রুদের বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়েছিল। এসব তথ্যের মধ্যে তাদের জাতীয়তাসহ বিভিন্ন পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ছিল।

তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই সময় বিমানে থাকা কারও বিষয়ে কোনো সতর্কবার্তা বা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, হাম্মামের অতীত সম্পর্কে তথ্য থাকার পরও কেন তাকে নিরাপত্তা যাচাইয়ে শনাক্ত করা যায়নি।

ওমানে পাইলট হিসেবে নিষেধাজ্ঞা ছিল

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ওমানে হাম্মামকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এরপরও তিনি ফ্লাই দুবাইয়ে চাকরি পান।

এই তথ্য সামনে আসার পর হাম্মাম কীভাবে আন্তর্জাতিক একটি বিমান সংস্থায় কো-পাইলট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলেন এবং ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেলেন, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে ওমানের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কে দিয়েছিল ছাড়পত্র?

ফ্লাইটের যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্ব কার ছিল, তা নিয়েও ইসরায়েলে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট জানিয়েছে, যাত্রীদের তালিকা যাচাইয়ের বিষয়টি দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তবে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ওই যাত্রী তালিকা বা কোনো সতর্কবার্তা পায়নি।

কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদান একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। তবে আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

একাধিকবার ইসরায়েলে এসেছিলেন হাম্মাম

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাই দুবাইয়ে কাজ শুরুর পর গত কয়েক মাসে হাম্মাম বেশ কয়েকবার বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে এসেছিলেন।

তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, জুনে ইসরায়েলে আসার সময় তার মূল উদ্দেশ্য ছিল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং হামলার পরিকল্পনা করা।

প্রাথমিকভাবে জুলাইয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন। কারণ, বিমানের একজন ক্রু সদস্যের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

চলছে যৌথ তদন্ত

ঘটনার পর ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে তদন্ত করছে। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও ঘটনার বিষয়ে তথ্য দিচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি তদন্তকারীরা হাম্মামকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। বরং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন তারা।

ফ্লাইটটির পাইলট ও ক্রুদের তথ্য আগে থেকেই ইসরায়েলের কাছে থাকার পরও কীভাবে হাম্মাম নিরাপত্তা যাচাই পেরিয়ে গেলেন, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।