প্রান্তিক খামারিরা সমৃদ্ধ হলে শক্তিশালী হবে অর্থনীতি: প্রতিমন্ত্রী টুকু
- আপডেট সময় : ০৫:২৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৬ বার পড়া হয়েছে
প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। তিনি বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান বাড়াতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে খুলনার দৌলতপুর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরাই দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা গেলে এর সুফল জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়বে। তাই প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন বাড়ানো, আয় বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে সব খামারিকে কৃষক কার্ডের আওতায় নিয়ে এসেছেন। এর মাধ্যমে খামারিদের কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং প্রান্তিক পর্যায়ে তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম চলছে।
হাঁসের হ্যাচিং ডিম রপ্তানি
প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের হ্যাচিং ডিম নাইজেরিয়ায় রপ্তানি করা হয়েছে। এখন উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা এর উৎপাদন বাড়াতে চাই। এই খাতটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বিক নজরদারি করছেন।”
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে সরকারি সহযোগিতা বাড়লে প্রান্তিক পর্যায়ে খামারির সংখ্যা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হবে।
তরুণদের খামার করতে উৎসাহ
প্রাণিসম্পদ খাতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, তরুণদের এই খাতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক তরুণ খামার করে সফলতা অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে তারা আধুনিক পদ্ধতিতে খামার পরিচালনা করে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকার, খামারি ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। এ খাতে আরও এগিয়ে যেতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
দৌলতপুর হাঁস প্রজনন খামারের উন্নয়ন
খুলনার দৌলতপুর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, খামারটির উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে খামারটির অবকাঠামো ও কার্যক্রম আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি আজ খামারটি পরিদর্শন করলাম। ইনশাআল্লাহ খুলনার মানুষ এখান থেকে যথাযথ সেবা পাবেন।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাঁসের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারি খামারগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
উপস্থিত ছিলেন যারা
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হুরে জান্নাত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমানসহ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা।
প্রতিমন্ত্রীর এ সফরে দৌলতপুর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের বর্তমান কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়।




















