পিপিআর-এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি: প্রতিমন্ত্রী টুকু
- আপডেট সময় : ১২:২৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
ছাগল-ভেড়ার ভাইরাসজনিত রোগ পিপিআর এবং গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত রোগ এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
তিনি বলেন, সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ হওয়ায় এসব রোগ দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই পিপিআর ও এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, টেকসই অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত ‘FAO Global Conference for Actions on One Health in Agrifood Systems’-এর একটি সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী।
‘ওয়ান হেলথ এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের মাধ্যমে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিপিআর ও এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ), এফএও, উন্নয়ন সহযোগী এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় জোরালো টিকাদান কর্মসূচি ও সক্রিয় নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে পিপিআরমুক্ত হওয়ার লক্ষ্য
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ছাগল ও ভেড়ার পিপিআরমুক্ত মর্যাদা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডব্লিউওএএইচের বৈশ্বিক কৌশল এবং ২০২৪-২০২৮ মেয়াদের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় দেশব্যাপী পিপিআর টিকাদান কার্যক্রম চলছে।
নজরদারি কার্যক্রমে কোনো প্রাদুর্ভাব শনাক্ত না হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডব্লিউওএএইচের কাছে পিপিআর নির্মূল কর্মসূচির ডসিয়ার জমা দিয়েছে বাংলাদেশ।
এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সপ্তম ধাপ চলমান
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভ কন্ট্রোল পাথওয়ে অনুসরণ করে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদে এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়ন করেছে। এরই মধ্যে লক্ষ্যভিত্তিক এফএমডি টিকাদানের ছয়টি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সপ্তম ধাপের কার্যক্রম চলছে।
নিরাপদ ও টেকসই মাংস রপ্তানির ভিত্তি তৈরি করতে এফএমডিমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এফএওর কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ এফএমডির জন্য একটি ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন এবং প্রাণীরোগের প্রাদুর্ভাব তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া বিষয়ে একটি ফিল্ড ম্যানুয়াল তৈরি করেছে।
এ ছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জাতীয় এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল ২০২৫-২০২৮ এবং পিপিআর নির্মূলের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৮ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে।
এসএটি-১ সেরোটাইপ নিয়ে সতর্কতা
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এফএমডির এসএটি-১ সেরোটাইপের বিস্তার নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশে এখনো এই সেরোটাইপ শনাক্ত হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত পারাপার, প্রাণিসম্পদের চলাচল, প্রাণিসম্পদ-সম্পর্কিত উপকরণ আমদানি এবং ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রাণীর বাড়তি চলাচলের মাধ্যমে এটি দেশে প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে।
এ কারণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, রোগ শনাক্তকরণ এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্যানেল আলোচনায় তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুইগুলু লামেক নচেম্বা, চাঁদের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদেরাহিম আওয়াত আবেইথ, ক্যামেরুনের প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও প্রাণী শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী তাইগা, নাইজেরিয়ার প্রাণিসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ইদি মুখতার মাইহা, মঙ্গোলিয়ার খাদ্য, কৃষি ও হালকা শিল্প মন্ত্রণালয়ের স্টেট সেক্রেটারি জামবালসেরেন তুমুর-উয়া, আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের ড. ওয়ার্কনেহ গেবেয়েহু এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মার্টিন সেলমায়ারসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।





















