পঞ্চগড়ে শরৎ না যেতেই শীতের আমেজ
- আপডেট সময় : ০৪:১৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
শরৎ শেষ হওয়ার আগেই উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। বৃষ্টির পর গত দুদিন ধরে তেঁতুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোরে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। ফসলের মাঠ, ঘাস ও গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
পঞ্চগড়কে ‘হিমালয় কন্যা’ বলা হয়। সাধারণত অক্টোবরের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ে এ অঞ্চলে শীতের অনুভূতি শুরু হয়। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতের তীব্রতা বেশি থাকে। তবে এবার শরৎ শেষ হওয়ার আগেই আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।
ভোরে কুয়াশা, রাতে বাড়ছে শীতের অনুভূতি
তেঁতুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে দিনের তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকছে ২৩ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।
গত দুদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত অনেক এলাকা কুয়াশায় ঢাকা ছিল। দিনের বেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রাত ও ভোরে হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। বুধবার সকালে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
ভোরের কুয়াশা ও শিশিরে গ্রামাঞ্চলের পরিবেশও বদলে গেছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক পরিবারে চাদর ও কাঁথার ব্যবহার শুরু হয়েছে। আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে কেউ কেউ সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন।
শীত নিয়ে দুশ্চিন্তায় শ্রমজীবী মানুষ
করতোয়া নদীর পাড়ের রামের ডাঙ্গা মহল্লার কৃষি শ্রমিক জয়নত বানু বলেন, শীত তাদের জন্য দুর্ভোগের কারণ। ঠান্ডার মধ্যে কাজ করতে অসুবিধা হয়। কয়েক দিন ধরে আবহাওয়া পরিবর্তন হয়েছে। পরিবারের কয়েকজন সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় পাথর-বালু ও কৃষি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতের ভোরে কুয়াশার মধ্যে মাঠে কাজ করতে হয়। শীতের তীব্রতা বাড়লে কাজের কষ্টও বাড়বে। তাই শীত বাড়ার আগেই দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। বিশেষ করে শীতবস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা তাদের।
বৃষ্টির পর বাড়ছে শীতের অনুভূতি
জেলা শহরের মসজিদপাড়া এলাকার কলেজ শিক্ষক শেখ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় পঞ্চগড়ে আগেভাগেই শীত অনুভূত হয়। কয়েকদিন ধরে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির পর উত্তর দিক থেকে হিমেল বাতাস প্রবেশ করায় ভোরে কুয়াশা ও শীতের অনুভূতি বেড়েছে। রাতে এখন ফ্যানের বদলে কাঁথা জড়িয়ে ঘুমাতে হচ্ছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ এলাকার বসিরুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালানোর সময় শীতের বিষয়টি বেশি বোঝা যায়। ভোরে ঘুম থেকে উঠলে চারপাশে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে।
তেঁতুলিয়ার ভজনপুর এলাকার জাকির হোসেন বলেন, ভোরে কুয়াশা থাকলেও সূর্য ওঠার পর আবার গরম অনুভূত হয়। বৃষ্টি হলে শীতের অনুভূতি আরও বাড়ে।
আবহাওয়া অফিস যা বলছে
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, বুধবার সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৪ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। যদিও শীতকাল আসতে আরও প্রায় এক মাস বাকি, তবুও রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত উত্তরের এ জনপদ কুয়াশায় ঢাকা থাকছে।
মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তা ও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে দিনের বেলায় মেঘমুক্ত আকাশ থাকায় আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকছে।
আগাম শীতের এই আবহ স্থানীয়দের কাছে উপভোগের হলেও দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক ও ভ্যানচালকদের জন্য এটি বাড়তি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভোরে কাজে বের হওয়া এসব মানুষের জীবন-জীবিকায় কুয়াশা ও ঠান্ডার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


























