দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি জোরদারে পটুয়াখালীতে ‘প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের অবহিতকরণ
- আপডেট সময় : ০৫:২২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি ও পূর্বাভাসভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে ‘প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউরোপীয় সিভিল প্রটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অপারেশনসের অর্থায়নে, কেয়ার বাংলাদেশ ও অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গারের কারিগরি সহযোগিতায় এবং নজরুল স্মৃতি সংসদের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নির্বাচিত ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
দুর্যোগের আগেই প্রস্তুতির উদ্যোগ
সভায় জানানো হয়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, বজ্রপাত ও খরাসহ বিভিন্ন জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে এসব দুর্যোগে প্রাণহানি এবং আর্থসামাজিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন ব্যবস্থার পাশাপাশি পূর্বাভাসভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সংকেত বা ট্রিগারের সঙ্গে আগাম পদক্ষেপকে যুক্ত করে দুর্যোগের আগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা
প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য হলো দুর্যোগের আগে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমে প্রাণহানি ও আর্থসামাজিক ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় প্রকল্পের মূল বিষয় ও কার্যক্রম তুলে ধরেন নজরুল স্মৃতি সংসদের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহসীন উদ্দিন। এ সময় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসাইন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গারের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবীর সুমন, অ্যাডভোকেসি ব্যবস্থাপক বাবুল শেখ এবং নজরুল স্মৃতি সংসদের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কে এম মুজিবুল আলমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, সময়োপযোগী পূর্বাভাস এবং পূর্বাভাসের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া দুর্যোগের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে প্রস্তুত করা, প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও গণমাধ্যমের সমন্বিত সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সংশ্লিষ্টরা।




















