০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

দুই দশক পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরছে বিপজ্জনক রাসায়নিক

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা পুরোনো ও বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ অপসারণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ধ্বংসের জন্য ৯টি রাসায়নিকবাহী কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় এসব কনটেইনার নির্ধারিত স্থানে নিয়ে ধ্বংস করা হবে।

বন্দর সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে সরিয়ে নেওয়া ৯টি কনটেইনারের মধ্যে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিডের একটি, মিথানলের পাঁচটি এবং থিনারের দুটি কনটেইনার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা এসব রাসায়নিকের কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তাই ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকগুলো দ্রুত সরিয়ে ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে ছিল বিপজ্জনক রাসায়নিক

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আমদানির পর নানা জটিলতার কারণে এসব রাসায়নিক খালাস করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতাও ছিল। ফলে কনটেইনারগুলো বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন আটকে থাকা মোট ২৯টি কনটেইনারে প্রায় ৮১ টন রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এসব রাসায়নিকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের দাহ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে কনটেইনারগুলো পড়ে থাকায় এগুলো বন্দরের নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে পুরোনো রাসায়নিকের ক্ষেত্রে কনটেইনারের ভেতরে রাসায়নিকের অবস্থা পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা রাসায়নিকগুলো দ্রুত অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।

প্রথম ধাপে ৯ কনটেইনার অপসারণ

বিষয়টি সমাধানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ৯টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, রাসায়নিকবাহী কনটেইনারগুলো বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবহন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের এইট বি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারগুলো রূপগঞ্জের ওয়াটা কেমিক্যালসের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

পরিবহনের সময় রাসায়নিকের ধরন ও ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব রাসায়নিক ধ্বংস করার কথা রয়েছে।

পর্যায়ক্রমে সরানো হবে বাকি কনটেইনার

প্রথম ধাপে ৯টি কনটেইনার অপসারণের পর বন্দর এলাকায় থাকা বাকি ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মোট ২৯টি কনটেইনারের মধ্যে অবশিষ্ট কনটেইনারগুলোও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব রাসায়নিক অপসারণের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য সংরক্ষণের চাপ কমবে। একই সঙ্গে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বন্দরের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি পণ্য এখানে ওঠানামা করে। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বিপজ্জনক রাসায়নিক পড়ে থাকা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় ছিল।

দুই দশক পর এসব রাসায়নিক অপসারণের উদ্যোগকে তাই বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাকি কনটেইনারগুলো দ্রুত ও নিরাপদভাবে অপসারণ এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে ধ্বংস করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টদের আশা, পর্যায়ক্রমে সব কনটেইনার সরিয়ে নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের এই জটিলতার অবসান হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে বিপজ্জনক রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি মজুতের ঝুঁকিও কমবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দুই দশক পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরছে বিপজ্জনক রাসায়নিক

আপডেট সময় : ১২:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা পুরোনো ও বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ অপসারণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ধ্বংসের জন্য ৯টি রাসায়নিকবাহী কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় এসব কনটেইনার নির্ধারিত স্থানে নিয়ে ধ্বংস করা হবে।

বন্দর সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে সরিয়ে নেওয়া ৯টি কনটেইনারের মধ্যে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিডের একটি, মিথানলের পাঁচটি এবং থিনারের দুটি কনটেইনার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা এসব রাসায়নিকের কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তাই ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকগুলো দ্রুত সরিয়ে ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে ছিল বিপজ্জনক রাসায়নিক

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আমদানির পর নানা জটিলতার কারণে এসব রাসায়নিক খালাস করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতাও ছিল। ফলে কনটেইনারগুলো বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন আটকে থাকা মোট ২৯টি কনটেইনারে প্রায় ৮১ টন রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এসব রাসায়নিকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের দাহ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে কনটেইনারগুলো পড়ে থাকায় এগুলো বন্দরের নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে পুরোনো রাসায়নিকের ক্ষেত্রে কনটেইনারের ভেতরে রাসায়নিকের অবস্থা পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা রাসায়নিকগুলো দ্রুত অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।

প্রথম ধাপে ৯ কনটেইনার অপসারণ

বিষয়টি সমাধানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ৯টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, রাসায়নিকবাহী কনটেইনারগুলো বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবহন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের এইট বি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারগুলো রূপগঞ্জের ওয়াটা কেমিক্যালসের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

পরিবহনের সময় রাসায়নিকের ধরন ও ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব রাসায়নিক ধ্বংস করার কথা রয়েছে।

পর্যায়ক্রমে সরানো হবে বাকি কনটেইনার

প্রথম ধাপে ৯টি কনটেইনার অপসারণের পর বন্দর এলাকায় থাকা বাকি ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মোট ২৯টি কনটেইনারের মধ্যে অবশিষ্ট কনটেইনারগুলোও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব রাসায়নিক অপসারণের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য সংরক্ষণের চাপ কমবে। একই সঙ্গে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বন্দরের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি পণ্য এখানে ওঠানামা করে। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বিপজ্জনক রাসায়নিক পড়ে থাকা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় ছিল।

দুই দশক পর এসব রাসায়নিক অপসারণের উদ্যোগকে তাই বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাকি কনটেইনারগুলো দ্রুত ও নিরাপদভাবে অপসারণ এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে ধ্বংস করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টদের আশা, পর্যায়ক্রমে সব কনটেইনার সরিয়ে নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের এই জটিলতার অবসান হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে বিপজ্জনক রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি মজুতের ঝুঁকিও কমবে।