দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
- আপডেট সময় : ১০:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬০ বার পড়া হয়েছে
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ বিরোধী জোটের একাধিক নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে দিল্লির আকাশবাণী ভবনের সামনে থেকে তাদের একটি বাসে তুলে উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী জোটের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় কংগ্রেস কর্মীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিয়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে জোর করে বাসে তুলে নেন।
কেন বিক্ষোভ করছিল বিরোধীরা
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর নিয়ে ‘অনিয়মের’ অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের আয়োজন করে ইন্ডিয়া জোট।
আকাশবাণী ভবনের আঙিনায় আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। তাদের প্রধান দাবি ছিল নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বিরোধী সংসদ সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে তাদের পুলিশের একটি বাসে তোলা হয়। পরে কিছুক্ষণ পর তাদের বাস থেকে নামতে দেখা যায়।
নির্বাচন কমিশন নিয়ে রাহুলের প্রশ্ন
দুপুরে আকাশবাণী ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় মাত্র ৫০ মিটার দূরে হলেও বিরোধী সংসদ সদস্যদের সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
রাহুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সঠিকভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা। তিনি দাবি করেন, অন্তত ৩০০ জন সংসদ সদস্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে চান।
তিনি প্রশ্ন করেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে না পারেন, তাহলে গণতন্ত্রের অর্থ কী?
সন্ধ্যায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে আটক করার আগে কংগ্রেস জানিয়েছিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে তারা চিঠি দিয়েছে।
দলটির একটি সূত্রের দাবি, নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে বৈঠকের আশ্বাস দিলে রাহুল গান্ধী চলমান অবস্থান কর্মসূচি তুলে নিতে পারেন। তবে শর্ত হিসেবে ৩০০ জন সংসদ সদস্যকেই বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে বলে জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য
এদিকে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
কমিশন জানিয়েছে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে বৈঠকের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করতে হয়। এরপর সম্মত সময় অনুযায়ী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত এমন কোনো অনুরোধ কমিশনের কাছে পৌঁছায়নি বলে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে কমিশন আরও জানায়, বিকেল ৪টার পর যখন সংসদ সদস্যদের প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হচ্ছিল, তখন দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার তাদের জানান, কাঙ্ক্ষিত বৈঠকে ২৪০ জন সংসদ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। বৈঠকটি পার্লামেন্ট হাউস অ্যানেক্সে আয়োজনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
তবে নির্বাচন কমিশন ওই প্রস্তাবকে অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে। কমিশনের দাবি, প্রচলিত প্রোটোকল অনুযায়ী এ ধরনের বৈঠক নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের ভেতরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
এদিকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকের ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধী জোটের বৈঠক নিয়ে অচলাবস্থা কতটা দীর্ঘ হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সূত্র: এনডিটিভি























