দাউদকান্দির প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ, বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকার উৎপাদন
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৬২১ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার প্লাবনভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ এখন দেশের জন্য একটি মডেল হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে ধানখেতে মাছ চাষ এবং শুকনো মৌসুমে একই জমিতে ধান উৎপাদন করছেন কৃষকরা। ফলে একটি জমি থেকেই সারা বছর আয় করছেন তারা। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে স্থানীয় বেকার যুবকদেরও।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন ইলিয়টগঞ্জ, পুটিয়া, রায়পুর, সিংগুলা, লক্ষ্মীপুর, সুহিলপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে মাছের প্রকল্প। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় শতাধিক মৎস্য প্রকল্প রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
জলাবদ্ধ জমিই হয়ে উঠেছে মাছ চাষের ক্ষেত্র
দাউদকান্দির অনেক এলাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার কারণে জমি বছরের আট থেকে নয় মাস ব্যবহার করা যেত না। এসব এলাকায় এক ফসলের বেশি উৎপাদনও সম্ভব হতো না। পরে সেই প্লাবনভূমির পানিকে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষ শুরু হয়।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালে উপজেলার হাসের খোলা গ্রামের সুনীল কুমার রায় প্রথম প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ শুরু করেন। তাঁর উদ্যোগ দেখে ধীরে ধীরে অন্য কৃষকরাও মাছ চাষে যুক্ত হন। বর্তমানে এই পদ্ধতি দাউদকান্দির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ
দাউদকান্দির মৎস্য প্রকল্পগুলোতে রুই, মৃগেল, কাতলা, সিলভার কার্প, সরপুঁটি ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদিত মাছ ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।
চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, মাছ সংরক্ষণের জন্য এলাকায় হিমাগার স্থাপন করা প্রয়োজন। এতে বাজারে দাম কম থাকলে মাছ সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে মাছ পরিবহনে সমস্যায় পড়তে হয় বলেও জানান তারা।
‘অভিশাপ’ থেকে আশীর্বাদ
মৎস্য চাষে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চাষি মতিন সৈকত বলেন, বর্ষাকালের বন্যার পানি একসময় এ এলাকার মানুষের জন্য অভিশাপ ছিল। এখন সেই পানিই আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হবে।
প্রশিক্ষণ ও সহায়তার আশ্বাস মৎস্য বিভাগের
কুমিল্লা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার জানান, দাউদকান্দিতে শতাধিক মৎস্য প্রকল্প রয়েছে। শিক্ষিত বেকার যুবকরাও মাছ চাষে যুক্ত হচ্ছেন। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি বেকারত্ব কমছে।
তিনি বলেন, মৎস্য চাষিদের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর উন্নয়নে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে।
চাষিদের দাবি, মরা খালগুলো সংস্কার, মাছ সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে দাউদকান্দির প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ উদ্যোগ আরও সমৃদ্ধ হয়ে দেশের মৎস্য খাতে বড় অবদান রাখবে।





















