দর্শনার্থীদের ভিড় শালবন বৌদ্ধ বিহারে, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি
- আপডেট সময় : ০৩:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি প্রত্নস্থলের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি এই বৌদ্ধ বিহার। এটি ১২শ প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। প্রতি বছর শীতে বিপুল পরিমান দর্শনার্থীর বেড়াতে আসেন এখানে। ট্যুরিষ্ট পুলিশের দাবি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সাথে সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে পর্যটকদের জন্য।
শীতকাল আসলেই পর্যটকের আনাগোনা বাড়ে কুমিল্লা শালবন বিহার ও জাদুঘরে। সারা দেশ থেকেই মানুষ আসে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে। লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান। ধারণা করা হয়, খৃস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।
বিহারে আছে সর্বমোট ১১৫ টি কক্ষ। কক্ষের সামনে ৮.৫ ফুট চওড়া টানা বারান্দা ও তার শেষ প্রান্তে অনুচ্চ দেয়াল। প্রতিটি কক্ষের দেয়ালে তিনটি করে কুলুঙ্গি রয়েছে। কুলুঙ্গিতে দেবদেবীর মূর্তি, তেলের প্রদীপ ইত্যাদি রাখা হতো। এই কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন। খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রোঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। এগুলো বাংলাদেশের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে।
বিহারে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে কাজ করে যাচ্ছে টুরিষ্ট পুলিশ। ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।
প্রতি বছর এই স্পট থেকে প্রচুর পরিমান রাজস্ব সরকারি তহবিলে জমা হয়। বর্তমানে ডিসেপ্লেতে নতুনত্ব, অনলাইন টিকেটসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।
কুমিল্লা শালবন বৌদ্ধ বিহার ঘিরে পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।




















