জামায়াতের কৃতজ্ঞতাবোধ কম: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:২০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
জামায়াতের কৃতজ্ঞতাবোধ কম বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রী করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাদের ‘রাজাকারের তকমা’ দূর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জামায়াত এখন সেই অতীতের কথা ভুলে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের কৃতজ্ঞতাবোধ নিয়ে প্রশ্ন
মীর শাহে আলম বলেন, জামায়াতের কর্মকাণ্ড দেখতে দেখতে মানুষ ক্লান্ত। তাদের কৃতজ্ঞতাবোধ খুবই কম। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রী করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে তাদের অতীতের পরিচয় ও ‘রাজাকারের তকমা’ দূর করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই সময়ের রাজনৈতিক সহযোগিতার কথা এখন জামায়াত ভুলে গেছে। অথচ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিচ্ছে এবং সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে।
সরকার জনগণের সরকার: প্রতিমন্ত্রী
বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে দাবি করে মীর শাহে আলম বলেন, সরকার এখনো ছয় মাস পূর্ণ করেনি। এর মধ্যেই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মসূচি ও হুমকি রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল আচরণ নয়।
জামায়াত ও এনসিপির চলমান আন্দোলন নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এসব আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে। পাশাপাশি তিনি ১১ দলীয় জোটের নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন।
‘বিএনপি কোনো হুমকিকে পরোয়া করে না’
বিএনপি কোনো পক্ষের হুমকিকে গুরুত্ব দেয় না বলেও মন্তব্য করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, যারা গত নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে বেঈমানি করেছে, তাদের দলে আর ঠাঁই হবে না।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুঃসময়ে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তারা ভবিষ্যতে দলের কাছ থেকে মূল্যায়ন পাবেন। বৈধভাবে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও পাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতির আহ্বান
আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম। এ জন্য দলের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পেল সহায়তা
এদিকে অনুষ্ঠানে বাঁশখালী উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবারের মধ্যে ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এতে মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত জুলাইয়ের ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু বাঁশখালী উপজেলাতেই প্রায় ১২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ধাপে ধাপে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মোট ১ হাজার ১০০ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতারা
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও ঘর নির্মাণে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।




















