০৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ কর পরিশোধের বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা পৃথক দুটি রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অনাদায়ী কর আদায়ে অবিলম্বে চাহিদাপত্র জারির জন্য এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে গ্রামীণফোনের শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা এবং গ্রামীণ কল্যাণের আয়কে লভ্যাংশ হিসেবে দেখিয়ে কর দেওয়ার বৈধতা নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

গ্রামীণ কল্যাণের রিট খারিজ

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রিট পিটিশন নম্বর ১৪৩৬৪/২০১৭-এর পূর্ণাঙ্গ রায় ৩২ পৃষ্ঠার। অন্যদিকে, রিট পিটিশন নম্বর ১৭৭২৭/২০১৭-এর রায় ১৫ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেন, গ্রামীণফোনের শেয়ারের প্রকৃত মালিক গ্রামীণ টেলিকম। অন্যদিকে, একটি চুক্তির আওতায় গ্রামীণ কল্যাণ অর্জিত আয়ের অংশীদার হলেও প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি গ্রামীণফোনের শেয়ারহোল্ডার নয়। তাই গ্রামীণ কল্যাণের প্রাপ্ত অর্থকে লভ্যাংশ হিসেবে দেখিয়ে কম হারে কর দেওয়ার সুযোগ নেই।

গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে চুক্তি

মামলার নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন দাতা সংস্থার অনুদান ও ঋণের সমন্বয়ে গঠিত একটি এন্ডোমেন্ট ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে ২০১১ সালের ১৩ এপ্রিল গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে নিবন্ধিত ‘ইকুইটি পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে গ্রামীণ কল্যাণ।

চুক্তি অনুযায়ী, গ্রামীণ টেলিকমের মাধ্যমে গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে গ্রামীণ কল্যাণ ৫৩ কোটি ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৯৪১ টাকা প্রদান করে। এর বিনিময়ে অর্জিত আয়ের ৪২ দশমিক ৬৫ শতাংশ পাওয়ার সুযোগ পায় প্রতিষ্ঠানটি।

তবে চুক্তির দ্বিতীয় শর্তে স্পষ্ট করা হয়েছিল, অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিনিময়ে গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণফোনের শেয়ারের মালিকানা দাবি করতে পারবে না। আদালত এ শর্তকে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন।

লভ্যাংশ দেখিয়ে ২০ শতাংশ হারে কর

মামলার নথিতে বলা হয়, ২০১২-২০১৩ থেকে ২০১৬-২০১৭ করবর্ষ পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণ তাদের আয়কর রিটার্নে এই আয়কে ‘ডিভিডেন্ড ইনকাম’ বা লভ্যাংশ আয় হিসেবে দেখায়। এ খাতে প্রতিষ্ঠানটি ২০ শতাংশ হারে কর হিসাব করে পরিশোধ করে।

তবে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ২(২৬) ধারা বিশ্লেষণ করে হাইকোর্ট বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো আয়কে লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে সরাসরি শেয়ারহোল্ডার হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ কল্যাণ যেহেতু গ্রামীণফোনের সরাসরি শেয়ারহোল্ডার নয়, তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রাপ্ত অর্থকে লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এ আয়কে আয়কর অধ্যাদেশের ৩৩ ধারা অনুসারে ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ হিসেবে গণ্য করতে হবে। ফলে আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে কর পরিশোধ করতে হবে।

অনাদায়ী কর আদায়ে এনবিআরকে নির্দেশ

হাইকোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা পৃথক দুটি রিট পিটিশনের রুল খারিজ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া স্থগিতাদেশও বাতিল করেছেন আদালত।

এ ছাড়া অনাদায়ী কর আদায়ের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে অবিলম্বে চাহিদাপত্র জারি করতে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আইনি নির্দেশনা পাওয়া গেল।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ কর পরিশোধের বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা পৃথক দুটি রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অনাদায়ী কর আদায়ে অবিলম্বে চাহিদাপত্র জারির জন্য এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে গ্রামীণফোনের শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা এবং গ্রামীণ কল্যাণের আয়কে লভ্যাংশ হিসেবে দেখিয়ে কর দেওয়ার বৈধতা নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

গ্রামীণ কল্যাণের রিট খারিজ

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রিট পিটিশন নম্বর ১৪৩৬৪/২০১৭-এর পূর্ণাঙ্গ রায় ৩২ পৃষ্ঠার। অন্যদিকে, রিট পিটিশন নম্বর ১৭৭২৭/২০১৭-এর রায় ১৫ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেন, গ্রামীণফোনের শেয়ারের প্রকৃত মালিক গ্রামীণ টেলিকম। অন্যদিকে, একটি চুক্তির আওতায় গ্রামীণ কল্যাণ অর্জিত আয়ের অংশীদার হলেও প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি গ্রামীণফোনের শেয়ারহোল্ডার নয়। তাই গ্রামীণ কল্যাণের প্রাপ্ত অর্থকে লভ্যাংশ হিসেবে দেখিয়ে কম হারে কর দেওয়ার সুযোগ নেই।

গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে চুক্তি

মামলার নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন দাতা সংস্থার অনুদান ও ঋণের সমন্বয়ে গঠিত একটি এন্ডোমেন্ট ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে ২০১১ সালের ১৩ এপ্রিল গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে নিবন্ধিত ‘ইকুইটি পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে গ্রামীণ কল্যাণ।

চুক্তি অনুযায়ী, গ্রামীণ টেলিকমের মাধ্যমে গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে গ্রামীণ কল্যাণ ৫৩ কোটি ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৯৪১ টাকা প্রদান করে। এর বিনিময়ে অর্জিত আয়ের ৪২ দশমিক ৬৫ শতাংশ পাওয়ার সুযোগ পায় প্রতিষ্ঠানটি।

তবে চুক্তির দ্বিতীয় শর্তে স্পষ্ট করা হয়েছিল, অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিনিময়ে গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণফোনের শেয়ারের মালিকানা দাবি করতে পারবে না। আদালত এ শর্তকে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন।

লভ্যাংশ দেখিয়ে ২০ শতাংশ হারে কর

মামলার নথিতে বলা হয়, ২০১২-২০১৩ থেকে ২০১৬-২০১৭ করবর্ষ পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণ তাদের আয়কর রিটার্নে এই আয়কে ‘ডিভিডেন্ড ইনকাম’ বা লভ্যাংশ আয় হিসেবে দেখায়। এ খাতে প্রতিষ্ঠানটি ২০ শতাংশ হারে কর হিসাব করে পরিশোধ করে।

তবে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ২(২৬) ধারা বিশ্লেষণ করে হাইকোর্ট বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো আয়কে লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে সরাসরি শেয়ারহোল্ডার হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ কল্যাণ যেহেতু গ্রামীণফোনের সরাসরি শেয়ারহোল্ডার নয়, তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রাপ্ত অর্থকে লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এ আয়কে আয়কর অধ্যাদেশের ৩৩ ধারা অনুসারে ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ হিসেবে গণ্য করতে হবে। ফলে আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে কর পরিশোধ করতে হবে।

অনাদায়ী কর আদায়ে এনবিআরকে নির্দেশ

হাইকোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা পৃথক দুটি রিট পিটিশনের রুল খারিজ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া স্থগিতাদেশও বাতিল করেছেন আদালত।

এ ছাড়া অনাদায়ী কর আদায়ের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে অবিলম্বে চাহিদাপত্র জারি করতে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আইনি নির্দেশনা পাওয়া গেল।