ক্রীড়াঙ্গনে লজ্জার দিন বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ছিল হতাশার এক দিন। একই দিনে ক্রিকেট, হকি ও ফুটবলে মাঠে নেমে তিন ম্যাচেই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে পাকিস্তানের কাছে হেরে সোনার পদকের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। এরপর হকিতে চীনের কাছে ৭-১ গোলে বড় ব্যবধানে পরাজয়। দিনের শেষ ম্যাচে ফিফা আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল দল।
তবে ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ এখনো রয়েছে। অন্যদিকে হকি ও ফুটবলের পরাজয় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে দিনের হতাশা আরও বাড়িয়েছে।
ক্রিকেটে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচটি ১৩ ওভারে নেমে আসে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন তাওহীদ হৃদয়।
জয়ের জন্য ১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। আবদুল সামাদ ১৫ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন। হাসান নেওয়াজ অপরাজিত থাকেন ২৭ রানে।
ফলে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয় বাংলাদেশের। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত না হলে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে ফল নির্ধারণের ব্যবস্থাও রয়েছে।
হকিতে চীনের কাছে ৭-১ গোল
ক্রিকেটের পর হকিতেও বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসে পুরুষদের স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চীনের কাছে ৭-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই চীনের আক্রমণের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম পাঁচ মিনিটেই দুই গোল হজম করে দলটি। পরে ব্যবধান আরও বাড়ায় চীন।
চীনের হয়ে চেন বেনহাই হ্যাটট্রিক করেন। ঝাং জিয়ালিং করেন দুটি গোল। ঝাও ইউলাই ও গাও জিয়েশেং একটি করে গোল করেন। বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন রাকিবুল হাসান।
এই হারের ফলে এশিয়ান গেমসে পঞ্চম বা ষষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। এখন সপ্তম-অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে থাইল্যান্ডের মুখোমুখি হবে দলটি।
ফুটবলে ৯ গোল হজম বাংলাদেশের
দিনের সবচেয়ে বড় পরাজয় এসেছে ফুটবলে। ফিফা আসিয়ান কাপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে ইন্দোনেশিয়া। প্রথমার্ধেই ৬-১ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আরও তিন গোল করে তারা।
ইন্দোনেশিয়ার হয়ে মিচেল বেকার একাই পাঁচ গোল করেন। বাংলাদেশের হয়ে শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলী ওয়াহিদ একটি করে গোল করেন।
এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচে তিন পরাজয় নিয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করেছে দলটি।
একই দিনে তিন হার
একদিনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের পরাজয় ক্রীড়াঙ্গনে হতাশা তৈরি করেছে। ক্রিকেটে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারালেও ব্রোঞ্জ জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। হকিতে বড় ব্যবধানে হেরে নিচের স্থানগুলোর লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে। আর ফুটবলে তিন ম্যাচে তিন হার দিয়ে আসিয়ান কাপ অভিযান শেষ হয়েছে।
ফলে ১ অক্টোবর বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে জয়হীন ও হতাশার একটি দিন হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকল।



















