ক্রীড়া কার্ডধারীরা পাবেন গণপরিবহনে ছাড়, স্বাস্থ্য ও বীমা সুবিধা
- আপডেট সময় : ০৫:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া কার্ডধারী খেলোয়াড়দের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া খেলোয়াড়দের জীবনমান উন্নয়নে গণপরিবহনে ছাড়, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবীমা ও ঝুঁকিবীমার সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রোববার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ক্রীড়া কার্ডধারীদের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
গণপরিবহনে ছাড়ের উদ্যোগ
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ক্রীড়া কার্ডধারীদের দেশের সরকারি ও বেসরকারি গণপরিবহনে ছাড়যুক্ত ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এবং পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
এর ফলে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়রা প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ পেতে পারেন।
স্বাস্থ্য ও বীমা সুবিধা
শুধু যাতায়াত সুবিধা নয়, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্রীড়াকালীন দুর্ঘটনা, উন্নত চিকিৎসার ব্যয় এবং বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্রীড়া কার্ডধারীদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবীমা ও ঝুঁকিবীমার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অংশীদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে খেলোয়াড়দের পেশাগত জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হলে তারা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
৩২৫ খেলোয়াড় ক্রীড়া কার্ডের আওতায়
ক্রীড়াকে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে তরুণদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং খেলোয়াড়দের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা কার্যক্রম চালু করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইভেন্টের ৩২৫ জন নির্বাচিত জাতীয় ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন।
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্রীড়া কার্ড শুধু পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিশ্চিতের পরিকল্পনা
ক্রীড়া কার্ড কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের নিয়মিত যাতায়াত, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সময় নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, বিআইডব্লিউটিএর সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ডিএমটিসিএলের পরিচালক মো. আমিনুর রহমান, জীবন বীমা কর্পোরেশনের জিএম আবু নাইম মো. মারুফ খান এবং বাংলাদেশ নৌপরিবহন মালিক সমিতির মহাপরিচালক ছিদ্দুকুর রহমান পাটোয়ারীসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়াজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণদের কাছে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার আগ্রহও বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।





















