এমপি নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বাবার আপস
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৮৬ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আপস মীমাংসা করেছেন নিহত মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। কারাগারে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলে কোনো আপত্তি নেই বলে আদালতকে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে আসামিদের পক্ষে হলফনামা দেন মরিয়মের বাবা। পরে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড শেষে কারাগারে নজরুল
এর আগে গত সোমবার দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বিভিন্ন তথ্য জানান।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় মাঝে মাঝে রাত কাটাতে হতো।
পুলিশ আদালতকে আরও জানিয়েছিল, তদন্তে মরিয়মের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কক্ষে কয়েকটি চিরকুটও পাওয়া যায়।
পরদিন মামলা, গ্রেপ্তার দুই আসামি
ঘটনার পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে বুধবার আদালতে মরিয়মের বাবা আপসের কথা জানিয়ে আসামিদের জামিনে কোনো আপত্তি না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন।























