০৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা এই সংসদ সদস্যের জামিন আবেদন বুধবার (৭ অক্টোবর) শুনানি শেষে খারিজ করা হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আপোসনামা দিয়েও মেলেনি জামিন

আদালতে এদিন গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আপোসের শর্তে জামিন আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে।

মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে আপোসনামা দাখিল করে জানান, গাজী নজরুল ইসলামের জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মরিয়মের বাবা আদালতকে জানান, তার মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে সন্দেহের ভিত্তিতে আসামি করা হয়েছে।

কী ঘটেছিল মরিয়মের মৃত্যুতে

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। পরিবারের সদস্যদের কাছে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিলেন মরিয়ম।

এজাহার অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই কক্ষে একটি সুসাইড নোটও পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

রিমান্ড ও কারাগারে পাঠানো

মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে আবারও চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাকসুদা ইসলামকে জামিন দেন ঢাকার একটি আদালত। তবে বুধবার গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলো।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বহিষ্কার

এর আগে গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গত ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়।

এদিকে ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার বাদী ছিলেন গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান। সেই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট গাজী নজরুল ইসলাম আট সপ্তাহের জামিন পান।

পরবর্তীতে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বিয়ের বিষয়ে যা বলা হয়েছে

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় গাজী নজরুল তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মকে নিয়ে সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এসব বিষয়ে মরিয়ম বিভিন্ন সময় তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা এই সংসদ সদস্যের জামিন আবেদন বুধবার (৭ অক্টোবর) শুনানি শেষে খারিজ করা হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আপোসনামা দিয়েও মেলেনি জামিন

আদালতে এদিন গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আপোসের শর্তে জামিন আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে।

মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে আপোসনামা দাখিল করে জানান, গাজী নজরুল ইসলামের জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মরিয়মের বাবা আদালতকে জানান, তার মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে সন্দেহের ভিত্তিতে আসামি করা হয়েছে।

কী ঘটেছিল মরিয়মের মৃত্যুতে

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। পরিবারের সদস্যদের কাছে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিলেন মরিয়ম।

এজাহার অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই কক্ষে একটি সুসাইড নোটও পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

রিমান্ড ও কারাগারে পাঠানো

মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে আবারও চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাকসুদা ইসলামকে জামিন দেন ঢাকার একটি আদালত। তবে বুধবার গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলো।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বহিষ্কার

এর আগে গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গত ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়।

এদিকে ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার বাদী ছিলেন গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান। সেই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট গাজী নজরুল ইসলাম আট সপ্তাহের জামিন পান।

পরবর্তীতে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বিয়ের বিষয়ে যা বলা হয়েছে

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় গাজী নজরুল তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মকে নিয়ে সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এসব বিষয়ে মরিয়ম বিভিন্ন সময় তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।