০২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

একসঙ্গে ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ, ভোগান্তির শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৭০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সিস্টেম আপগ্রেড ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের কারণে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে এবার একসঙ্গে প্রায় ৩০টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআরসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, এটি স্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ বিষয়ে গ্রাহকদের আগাম এসএমএস ও অন্যান্য মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

কেন একসঙ্গে ৩০ ব্যাংকের সেবা বন্ধ

ব্যাংকগুলোর দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ এবং কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে বিভিন্ন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে।

কোনো কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টার জন্য সেবা বন্ধ থাকবে। আবার কোনো কোনো ব্যাংকের নির্দিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর সেবা কয়েক দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছে।

কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কিছু কার্ড ও লেনদেন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছে ব্যাংকগুলো।

এ সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এটিএম, কার্ড, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআর সেবার কোনো কোনোটি ব্যবহার করা সম্ভব নাও হতে পারে।

যেসব ব্যাংক গ্রাহকদের সতর্ক করেছে

সম্প্রতি ব্যাংক এশিয়া, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক তাদের প্রযুক্তিনির্ভর কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ থাকার বিষয়ে গ্রাহকদের জানিয়েছে।

তবে সব ব্যাংকের সব সেবা একই সময়ে বন্ধ থাকবে না। কোন ব্যাংকের কোন সেবা কত সময় বন্ধ থাকবে, তা ব্যাংকভেদে ভিন্ন হতে পারে।

গ্রাহকদের কী ধরনের ভোগান্তি হতে পারে

সেবা বন্ধ থাকার সময়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হতে পারে জরুরি নগদ টাকার প্রয়োজন হলে। কোনো গ্রাহকের নিজস্ব ব্যাংকের এটিএম বা কার্ড সেবা বন্ধ থাকলে তাকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

এ ছাড়া দোকানে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট, পিওএস মেশিনে লেনদেন, কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ এবং অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এনপিএসবি সেবা বন্ধ থাকলে অন্য ব্যাংকের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর বা আন্তঃব্যাংক লেনদেনেও কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। একই সময়ে একাধিক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ থাকায় বিকল্প সেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশেষ করে যারা নিয়মিত কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করেন, অনলাইনে বিল পরিশোধ করেন কিংবা ই-কমার্সে পেমেন্ট করেন, তাদের জন্য সেবা বন্ধ থাকার সময়টি গুরুত্বপূর্ণ।

‘কাকতালীয়ভাবে একসঙ্গে ৩০ ব্যাংক’

একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিবছর ব্যাংকগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিছু সেবা বন্ধ রাখতে পারে।

তিনি জানান, এবারও প্রতিটি ব্যাংক আলাদাভাবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কাকতালীয়ভাবে প্রায় ৩০টি ব্যাংক একই সময়ের মধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তিগত কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে গেছে। ফলে বিষয়টি গ্রাহকদের নজরে এসেছে এবং উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এতে গ্রাহকদের কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং গ্রাহকদের আগাম জানানো ও সচেতন করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এসএমএসে গ্রাহকদের জানাচ্ছে ব্যাংক

ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কোন কোন সেবা বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে গ্রাহকদের এসএমএসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আগাম সতর্ক করা হয়েছে।

তবে গ্রাহকদেরও নিজ নিজ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, এসএমএস বা শাখার বিজ্ঞপ্তি দেখে সেবা বন্ধ থাকার সময়সূচি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কারণ একই ব্যাংকের সব ধরনের সেবা একসঙ্গে বন্ধ নাও থাকতে পারে। কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে শুধু কার্ড বা এটিএম সেবা বন্ধ থাকতে পারে। আবার কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে অনলাইন লেনদেন, পিওএস, এনপিএসবি কিংবা কিউআর সেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে।

গ্রাহকের করণীয়

ব্যাংকিং সেবা সাময়িক বন্ধ থাকার সময়ে গ্রাহকদের কিছুটা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বড় অঙ্কের অনলাইন পেমেন্ট, জরুরি কার্ড লেনদেন কিংবা নগদ টাকা তোলার প্রয়োজন থাকলে আগে থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখা ভালো।

প্রয়োজনে বিকল্প ব্যাংক হিসাব, অন্য কার্ড, মোবাইল আর্থিক সেবা বা অন্য বৈধ লেনদেন ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সময় গ্রাহকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া লিংক, অ্যাপ বা লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত নয়। একইভাবে কার্ডের পিন, ওটিপি, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

প্রযুক্তি উন্নয়নে সাময়িক ভোগান্তি

ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে নিরাপত্তা জোরদার, লেনদেনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তি সংযুক্ত করা এবং পুরোনো সিস্টেম উন্নত করার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন হয়।

এ ধরনের কাজের সময় কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখা স্বাভাবিক। তবে একসঙ্গে বেশি সংখ্যক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ থাকলে গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

বর্তমানে দৈনন্দিন কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, অনলাইন শপিং, অর্থ স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কাজে মানুষ কার্ড ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই সেবা বন্ধের সময়সূচি আগে থেকে জানানো এবং বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে গ্রাহকদের পরিষ্কার ধারণা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাংকগুলো অবশ্য জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই সিস্টেম মাইগ্রেশন বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

অর্থাৎ একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের কিছু প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সাময়িক বন্ধ থাকলেও পুরো ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। ব্যাংকভেদে নির্দিষ্ট কিছু সেবা সীমিত সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। তাই গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি দেখে প্রয়োজনীয় লেনদেন আগে থেকেই পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

একসঙ্গে ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ, ভোগান্তির শঙ্কা

আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সিস্টেম আপগ্রেড ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের কারণে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে এবার একসঙ্গে প্রায় ৩০টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআরসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, এটি স্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ বিষয়ে গ্রাহকদের আগাম এসএমএস ও অন্যান্য মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

কেন একসঙ্গে ৩০ ব্যাংকের সেবা বন্ধ

ব্যাংকগুলোর দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ এবং কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে বিভিন্ন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে।

কোনো কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টার জন্য সেবা বন্ধ থাকবে। আবার কোনো কোনো ব্যাংকের নির্দিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর সেবা কয়েক দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছে।

কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কিছু কার্ড ও লেনদেন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছে ব্যাংকগুলো।

এ সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এটিএম, কার্ড, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআর সেবার কোনো কোনোটি ব্যবহার করা সম্ভব নাও হতে পারে।

যেসব ব্যাংক গ্রাহকদের সতর্ক করেছে

সম্প্রতি ব্যাংক এশিয়া, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক তাদের প্রযুক্তিনির্ভর কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ থাকার বিষয়ে গ্রাহকদের জানিয়েছে।

তবে সব ব্যাংকের সব সেবা একই সময়ে বন্ধ থাকবে না। কোন ব্যাংকের কোন সেবা কত সময় বন্ধ থাকবে, তা ব্যাংকভেদে ভিন্ন হতে পারে।

গ্রাহকদের কী ধরনের ভোগান্তি হতে পারে

সেবা বন্ধ থাকার সময়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হতে পারে জরুরি নগদ টাকার প্রয়োজন হলে। কোনো গ্রাহকের নিজস্ব ব্যাংকের এটিএম বা কার্ড সেবা বন্ধ থাকলে তাকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

এ ছাড়া দোকানে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট, পিওএস মেশিনে লেনদেন, কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ এবং অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এনপিএসবি সেবা বন্ধ থাকলে অন্য ব্যাংকের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর বা আন্তঃব্যাংক লেনদেনেও কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। একই সময়ে একাধিক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ থাকায় বিকল্প সেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশেষ করে যারা নিয়মিত কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করেন, অনলাইনে বিল পরিশোধ করেন কিংবা ই-কমার্সে পেমেন্ট করেন, তাদের জন্য সেবা বন্ধ থাকার সময়টি গুরুত্বপূর্ণ।

‘কাকতালীয়ভাবে একসঙ্গে ৩০ ব্যাংক’

একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিবছর ব্যাংকগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিছু সেবা বন্ধ রাখতে পারে।

তিনি জানান, এবারও প্রতিটি ব্যাংক আলাদাভাবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কাকতালীয়ভাবে প্রায় ৩০টি ব্যাংক একই সময়ের মধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তিগত কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে গেছে। ফলে বিষয়টি গ্রাহকদের নজরে এসেছে এবং উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এতে গ্রাহকদের কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং গ্রাহকদের আগাম জানানো ও সচেতন করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এসএমএসে গ্রাহকদের জানাচ্ছে ব্যাংক

ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কোন কোন সেবা বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে গ্রাহকদের এসএমএসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আগাম সতর্ক করা হয়েছে।

তবে গ্রাহকদেরও নিজ নিজ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, এসএমএস বা শাখার বিজ্ঞপ্তি দেখে সেবা বন্ধ থাকার সময়সূচি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কারণ একই ব্যাংকের সব ধরনের সেবা একসঙ্গে বন্ধ নাও থাকতে পারে। কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে শুধু কার্ড বা এটিএম সেবা বন্ধ থাকতে পারে। আবার কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে অনলাইন লেনদেন, পিওএস, এনপিএসবি কিংবা কিউআর সেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে।

গ্রাহকের করণীয়

ব্যাংকিং সেবা সাময়িক বন্ধ থাকার সময়ে গ্রাহকদের কিছুটা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বড় অঙ্কের অনলাইন পেমেন্ট, জরুরি কার্ড লেনদেন কিংবা নগদ টাকা তোলার প্রয়োজন থাকলে আগে থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখা ভালো।

প্রয়োজনে বিকল্প ব্যাংক হিসাব, অন্য কার্ড, মোবাইল আর্থিক সেবা বা অন্য বৈধ লেনদেন ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সময় গ্রাহকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া লিংক, অ্যাপ বা লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত নয়। একইভাবে কার্ডের পিন, ওটিপি, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

প্রযুক্তি উন্নয়নে সাময়িক ভোগান্তি

ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে নিরাপত্তা জোরদার, লেনদেনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তি সংযুক্ত করা এবং পুরোনো সিস্টেম উন্নত করার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন হয়।

এ ধরনের কাজের সময় কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখা স্বাভাবিক। তবে একসঙ্গে বেশি সংখ্যক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ থাকলে গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

বর্তমানে দৈনন্দিন কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, অনলাইন শপিং, অর্থ স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কাজে মানুষ কার্ড ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই সেবা বন্ধের সময়সূচি আগে থেকে জানানো এবং বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে গ্রাহকদের পরিষ্কার ধারণা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাংকগুলো অবশ্য জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই সিস্টেম মাইগ্রেশন বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

অর্থাৎ একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের কিছু প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সাময়িক বন্ধ থাকলেও পুরো ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। ব্যাংকভেদে নির্দিষ্ট কিছু সেবা সীমিত সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। তাই গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি দেখে প্রয়োজনীয় লেনদেন আগে থেকেই পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।