০২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একই দাগে খাস জমির সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির নামজারির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একই দাগের জমির একাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং অন্য অংশ খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি নামজারির আওতার বাইরে থাকবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-৩ শাখা থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে একই দাগে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি থাকলে কীভাবে তা পৃথক করে নামজারি করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি পৃথক করতে হবে

পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো দাগের একাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং অন্য অংশ খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে পুরো দাগের ভিত্তিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা যাবে না।

এ ধরনের ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি পৃথকভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করবেন। এজন্য সাবেক ও হাল রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের দলিলপত্র পর্যালোচনা করতে হবে।

একই সঙ্গে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সীমানা বাস্তবভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

সরেজমিন তদন্ত ও যৌথ স্বাক্ষরে নকশা

নামজারির আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার আওতাধীন কানুনগো বা সার্ভেয়ারকে দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করাবেন।

এ সময় স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি পৃথকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। পরে যৌথ স্বাক্ষরযুক্ত খসড়া নকশা প্রস্তুত করতে হবে।

প্রয়োজনে শুনানি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা ও দলিলপত্র পর্যালোচনা করা হবে। এরপর ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদন এবং ওই অংশের ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা যাবে।

সরকারি জমিতে মালিকানার অধিকার তৈরি হবে না

পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি হলেও সংশ্লিষ্ট দাগ ও খতিয়ানের অবশিষ্ট খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশের ওপর নামজারির মাধ্যমে কোনো স্বত্ব, মালিকানা, দখল বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি হবে না।

অর্থাৎ সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি নামজারির আওতার বাইরে থাকবে। সৃজিত খতিয়ানের মন্তব্য কলামেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট দাগে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ রয়েছে এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের জন্য নামজারি অনুমোদন করা হয়েছে—এ তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

আলাদা কেস নথির প্রয়োজন হবে না

নামজারি আবেদনের ভিত্তিতে জমি পৃথক করা হলে এ জন্য আলাদা কোনো কেস নথি তৈরির প্রয়োজন হবে না। নামজারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই জমি পৃথকীকরণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

তবে নামজারি ছাড়া সরকারি স্বার্থে অথবা সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পৃথকীকরণের প্রয়োজন হলে আলাদা কেস নথি তৈরি করতে হবে।

আদালতের মামলা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা

সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে অথবা আদালতের কোনো রায় বা আদেশ থাকলে তা বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

আদালতের আদেশের মাধ্যমে কোনো স্বত্ব নির্ধারিত হলে প্রচলিত আইন এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ ছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা নতুন ফিচার সংযোজনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

একই দাগে খাস জমির সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির নামজারির নির্দেশ

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একই দাগের জমির একাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং অন্য অংশ খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি নামজারির আওতার বাইরে থাকবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-৩ শাখা থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে একই দাগে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি থাকলে কীভাবে তা পৃথক করে নামজারি করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি পৃথক করতে হবে

পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো দাগের একাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং অন্য অংশ খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে পুরো দাগের ভিত্তিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা যাবে না।

এ ধরনের ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি পৃথকভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করবেন। এজন্য সাবেক ও হাল রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের দলিলপত্র পর্যালোচনা করতে হবে।

একই সঙ্গে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সীমানা বাস্তবভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

সরেজমিন তদন্ত ও যৌথ স্বাক্ষরে নকশা

নামজারির আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার আওতাধীন কানুনগো বা সার্ভেয়ারকে দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করাবেন।

এ সময় স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি পৃথকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। পরে যৌথ স্বাক্ষরযুক্ত খসড়া নকশা প্রস্তুত করতে হবে।

প্রয়োজনে শুনানি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা ও দলিলপত্র পর্যালোচনা করা হবে। এরপর ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদন এবং ওই অংশের ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা যাবে।

সরকারি জমিতে মালিকানার অধিকার তৈরি হবে না

পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি হলেও সংশ্লিষ্ট দাগ ও খতিয়ানের অবশিষ্ট খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশের ওপর নামজারির মাধ্যমে কোনো স্বত্ব, মালিকানা, দখল বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি হবে না।

অর্থাৎ সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি নামজারির আওতার বাইরে থাকবে। সৃজিত খতিয়ানের মন্তব্য কলামেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট দাগে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ রয়েছে এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের জন্য নামজারি অনুমোদন করা হয়েছে—এ তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

আলাদা কেস নথির প্রয়োজন হবে না

নামজারি আবেদনের ভিত্তিতে জমি পৃথক করা হলে এ জন্য আলাদা কোনো কেস নথি তৈরির প্রয়োজন হবে না। নামজারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই জমি পৃথকীকরণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

তবে নামজারি ছাড়া সরকারি স্বার্থে অথবা সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পৃথকীকরণের প্রয়োজন হলে আলাদা কেস নথি তৈরি করতে হবে।

আদালতের মামলা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা

সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে অথবা আদালতের কোনো রায় বা আদেশ থাকলে তা বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

আদালতের আদেশের মাধ্যমে কোনো স্বত্ব নির্ধারিত হলে প্রচলিত আইন এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ ছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা নতুন ফিচার সংযোজনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।