০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়ে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এতে দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য ইরানের অজনপ্রিয় যুদ্ধকে দায়ী করেন ভ্যান্স। একই সঙ্গে যুদ্ধের পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের অবস্থান তৈরির রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের প্রশ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জেডি ভ্যান্স রিপাবলিকানদের নির্বাচনী পরাজয়ের সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সম্পর্ক তুলে ধরেন।

তিনি লেখেন, ‘আপনি যদি যুক্তি দিতে চান যে এই যুদ্ধটি সার্থক ছিল, আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোও সার্থক ছিল, তাহলে সেই যুক্তি দিন।’

ভ্যান্সের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

তবে যুদ্ধের পক্ষে ট্রাম্পের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। নির্বাচনের ফলাফল আসার সময় বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি।

ভ্যান্সের বক্তব্যকে ভালো বললেন ট্রাম্প

বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় নির্মাণাধীন বলরুম ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য সাংবাদিকদের সেখানে নিয়ে যান তিনি।

ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিষয়টি আমাদের মোকাবিলা করতেই হয়েছে, এবং আমরা এখনো তা চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও জানান, বুধবার সকালে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ভ্যান্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে সেটিকে ভালো বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি এ বিষয়ে সে কী অনুভব করে এবং আমার মনে হয়, এটা ঠিকই ছিল।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে, সেটি আগে থেকেই জানতেন বলেও জানান তিনি। তবে নির্বাচনী পরাজয়ের পরও নিজের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

২০২৮ সালের নির্বাচন ঘিরে ভ্যান্সের রাজনৈতিক হিসাব

বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে সংযমের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে আসছেন জেডি ভ্যান্স। তবে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর তিনি প্রকাশ্যে সংঘাতের বিরোধিতা করেননি। যদিও যুদ্ধের পক্ষে ট্রাম্পের মতো জোরালো অবস্থানও নেননি।

এমনকি যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থ একটি প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়ও ছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতি থেকে দূরত্ব তৈরি করা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ভোটারদের অসন্তোষকে সামনে রেখে ভ্যান্স নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন ভ্যান্স

আপডেট সময় : ০১:২৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়ে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এতে দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য ইরানের অজনপ্রিয় যুদ্ধকে দায়ী করেন ভ্যান্স। একই সঙ্গে যুদ্ধের পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের অবস্থান তৈরির রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের প্রশ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জেডি ভ্যান্স রিপাবলিকানদের নির্বাচনী পরাজয়ের সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সম্পর্ক তুলে ধরেন।

তিনি লেখেন, ‘আপনি যদি যুক্তি দিতে চান যে এই যুদ্ধটি সার্থক ছিল, আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোও সার্থক ছিল, তাহলে সেই যুক্তি দিন।’

ভ্যান্সের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

তবে যুদ্ধের পক্ষে ট্রাম্পের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। নির্বাচনের ফলাফল আসার সময় বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি।

ভ্যান্সের বক্তব্যকে ভালো বললেন ট্রাম্প

বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় নির্মাণাধীন বলরুম ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য সাংবাদিকদের সেখানে নিয়ে যান তিনি।

ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিষয়টি আমাদের মোকাবিলা করতেই হয়েছে, এবং আমরা এখনো তা চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও জানান, বুধবার সকালে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ভ্যান্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে সেটিকে ভালো বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি এ বিষয়ে সে কী অনুভব করে এবং আমার মনে হয়, এটা ঠিকই ছিল।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে, সেটি আগে থেকেই জানতেন বলেও জানান তিনি। তবে নির্বাচনী পরাজয়ের পরও নিজের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

২০২৮ সালের নির্বাচন ঘিরে ভ্যান্সের রাজনৈতিক হিসাব

বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে সংযমের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে আসছেন জেডি ভ্যান্স। তবে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর তিনি প্রকাশ্যে সংঘাতের বিরোধিতা করেননি। যদিও যুদ্ধের পক্ষে ট্রাম্পের মতো জোরালো অবস্থানও নেননি।

এমনকি যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থ একটি প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়ও ছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতি থেকে দূরত্ব তৈরি করা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ভোটারদের অসন্তোষকে সামনে রেখে ভ্যান্স নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।