ইউরোপে অভিবাসী আগমন ৩৯ শতাংশ কমেছে, বেড়েছে প্রাণহানি: জাতিসংঘ
- আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থীদের আগমন চলতি বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে সমুদ্রপথে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থী ইউরোপে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৪০ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসী আগমন কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ।
তবে আগমন কমলেও পরিস্থিতির আরেকটি দিক উদ্বেগজনক। চলতি বছর ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের বিভিন্ন রুটে অন্তত ২ হাজার ২৯২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৯ জন।
ইতালিমুখী রুটে আগমন কমেছে ৫৫ শতাংশ
ইউরোপে অভিবাসী আগমন কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে ইতালিমুখী সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে। এই পথে চলতি বছরে আগমন কমেছে ৫৫ শতাংশ।
তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নীতি কঠোর করার সঙ্গে আগমন কমার সরাসরি সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠা করেনি আইওএম।
অন্যদিকে, লিবিয়ার কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সমুদ্রে ১৭ হাজার ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করে লিবিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরে বেড়েছে প্রাণহানি
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে। এই রুট ব্যবহার করে অনেকে গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
আইওএম জানিয়েছে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের ২৮৪ থেকে বেড়ে চলতি বছরে ৪১৭ হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ রুটে প্রাণহানি বেড়েছে ১৩৩ জন।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, নিরাপদে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ এখনো উদ্বেগজনক হারে মারা যাচ্ছে এবং নিখোঁজ হচ্ছে। তার মতে, এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ক্রমেই আরও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার দিকে ঠেলে পড়ছেন।
প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে
আইওএমের প্রকাশিত হিসাব ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা দুর্ঘটনা ও আগমনের ঘটনাগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, অনেক নৌকাডুবি ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিকের দুর্গম সমুদ্রপথে দুর্ঘটনার পর অনেকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায় না। ফলে সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নথিভুক্ত হিসাবের বাইরেও প্রাণহানির ঘটনা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিরাপদ অভিবাসনের আহ্বান
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রাণহানি কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ।
তিনি বলেন, জীবন বাঁচানো, অভিবাসনপথে থাকা মানুষদের সুরক্ষা দেওয়া, মানবপাচার ও শোষণ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করতে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
আইওএমের মতে, ইউরোপে সমুদ্রপথে অভিবাসী আগমন কমলেও বিপজ্জনক যাত্রায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। তাই শুধু অভিবাসী আগমন কমানোর ওপর গুরুত্ব না দিয়ে সমুদ্রপথে জীবন রক্ষা, মানবপাচার মোকাবিলা এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।























