০৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ভুয়া হলফনামায় পূর্বাচলে ৫ কাঠার প্লট, দুদকের মামলায় নুরুন্নাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৯১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ভুয়া হলফনামা দাখিল ও তথ্য গোপন করে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে নুরুন্নাহার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজউকের উত্তরা আবাসিক এলাকায় তাঁর স্বামীর নামে আগে থেকেই একটি প্লট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তিনি পূর্বাচলে পাঁচ কাঠার আরেকটি প্লট নিজের নামে নিতে আবেদন করেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের উপসহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সংস্থাটির জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পূর্বাচলে প্লট পেতে ভুয়া হলফনামার অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নুরুন্নাহার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সেক্টর-১০-এর ১০৮ নম্বর সড়কের ০২৮ নম্বর প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। প্লটটির আয়তন পাঁচ কাঠা।

আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা ও অঙ্গীকারনামায় তিনি দাবি করেন, রাজউকের আওতাধীন পূর্বাচলসহ অন্য কোনো আবাসিক এলাকায় তাঁর অথবা তাঁর স্বামীর নামে কোনো প্লট বা বরাদ্দ নেই।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার অসংগতি পাওয়া যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বামীর নামে উত্তরা আবাসিক এলাকায় প্লট

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, নুরুন্নাহারের স্বামী শেখ আব্দুস সালেক এরই মধ্যে রাজউকের উত্তরা আবাসিক এলাকায় একটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। সেখানে তিনি একটি ভবনও নির্মাণ করেছেন।

দুদকের অভিযোগ, স্বামীর নামে আগে থেকে প্লট বরাদ্দ থাকার তথ্য গোপন করে নুরুন্নাহার পূর্বাচল প্রকল্পে নতুন প্লট পাওয়ার আবেদন করেন। এ ক্ষেত্রে ভুয়া হলফনামা ও অঙ্গীকারনামা ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

রাজউকের প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী, স্বামী ও স্ত্রীর নামে পৃথক প্লট বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ নেই বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একজনের নামে বরাদ্দ বাতিলের বিধানও রয়েছে।

প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া হলফনামা দাখিল করে নুরুন্নাহার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্লটটি নিজের নামে বরাদ্দ নেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

সরকারি আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের নামে আগে থেকে কোনো প্লট বরাদ্দ রয়েছে কি না, তা গোপন করা হলে বরাদ্দপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে ব্যবস্থা নেবে দুদক

এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা সরকারি কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

তবে মামলাটি দায়েরের মাধ্যমে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভুয়া হলফনামায় পূর্বাচলে ৫ কাঠার প্লট, দুদকের মামলায় নুরুন্নাহার

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ভুয়া হলফনামা দাখিল ও তথ্য গোপন করে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে নুরুন্নাহার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজউকের উত্তরা আবাসিক এলাকায় তাঁর স্বামীর নামে আগে থেকেই একটি প্লট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তিনি পূর্বাচলে পাঁচ কাঠার আরেকটি প্লট নিজের নামে নিতে আবেদন করেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের উপসহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সংস্থাটির জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পূর্বাচলে প্লট পেতে ভুয়া হলফনামার অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নুরুন্নাহার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সেক্টর-১০-এর ১০৮ নম্বর সড়কের ০২৮ নম্বর প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। প্লটটির আয়তন পাঁচ কাঠা।

আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা ও অঙ্গীকারনামায় তিনি দাবি করেন, রাজউকের আওতাধীন পূর্বাচলসহ অন্য কোনো আবাসিক এলাকায় তাঁর অথবা তাঁর স্বামীর নামে কোনো প্লট বা বরাদ্দ নেই।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার অসংগতি পাওয়া যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বামীর নামে উত্তরা আবাসিক এলাকায় প্লট

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, নুরুন্নাহারের স্বামী শেখ আব্দুস সালেক এরই মধ্যে রাজউকের উত্তরা আবাসিক এলাকায় একটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। সেখানে তিনি একটি ভবনও নির্মাণ করেছেন।

দুদকের অভিযোগ, স্বামীর নামে আগে থেকে প্লট বরাদ্দ থাকার তথ্য গোপন করে নুরুন্নাহার পূর্বাচল প্রকল্পে নতুন প্লট পাওয়ার আবেদন করেন। এ ক্ষেত্রে ভুয়া হলফনামা ও অঙ্গীকারনামা ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

রাজউকের প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী, স্বামী ও স্ত্রীর নামে পৃথক প্লট বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ নেই বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একজনের নামে বরাদ্দ বাতিলের বিধানও রয়েছে।

প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া হলফনামা দাখিল করে নুরুন্নাহার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্লটটি নিজের নামে বরাদ্দ নেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

সরকারি আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের নামে আগে থেকে কোনো প্লট বরাদ্দ রয়েছে কি না, তা গোপন করা হলে বরাদ্দপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে ব্যবস্থা নেবে দুদক

এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা সরকারি কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

তবে মামলাটি দায়েরের মাধ্যমে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।