০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বায়তুল মোকাররমের খতিবের পক্ষে বিক্ষোভ, জামায়াতবিরোধী স্লোগান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৭৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের পক্ষে বিক্ষোভ করেছেন একদল মুসল্লি। তাঁকে অপসারণের দাবির প্রতিবাদে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জামায়াতে ইসলামী ও দলটির আদর্শের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভে ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

জামায়াতবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের চেষ্টার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে। এ সময় তাঁরা ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘মওদুদির আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, মুফতি আব্দুল মালেক জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ইমামতি করবেন। তাঁদের ভাষ্য, ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; ইসলাম আল্লাহর, তৌহিদে বিশ্বাসী মানুষের এবং সব মুসলমানের।

খতিবের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন মুফতি আব্দুল মালেক। তাঁর বক্তব্য ঘিরে জামায়াতপন্থীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়। তাঁদের কেউ কেউ খতিবের অপসারণের দাবিও জানান। পাশাপাশি বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান কেউ কেউ।

অন্যদিকে, মুফতি আব্দুল মালেকের পক্ষে অবস্থান নেন বিএনপিসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতাকর্মীরা। কওমি ধারার আলেমদের একটি বড় অংশও তাঁর পাশে থাকার ঘোষণা দেন।

শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মসজিদ এলাকায় বাড়তি সতর্কতা দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কে এই মুফতি আব্দুল মালেক?

মুফতি আব্দুল মালেক দেশের অন্যতম পরিচিত গবেষক আলেম। আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলেও এ পদে পরিবর্তন আনা হয়নি।

মুফতি আব্দুল মালেক বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ইমামতি করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে, খতিবের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে শুক্রবারের এই বিক্ষোভ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বায়তুল মোকাররমের খতিবের পক্ষে বিক্ষোভ, জামায়াতবিরোধী স্লোগান

আপডেট সময় : ০৫:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের পক্ষে বিক্ষোভ করেছেন একদল মুসল্লি। তাঁকে অপসারণের দাবির প্রতিবাদে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জামায়াতে ইসলামী ও দলটির আদর্শের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভে ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

জামায়াতবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের চেষ্টার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে। এ সময় তাঁরা ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘মওদুদির আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, মুফতি আব্দুল মালেক জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ইমামতি করবেন। তাঁদের ভাষ্য, ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; ইসলাম আল্লাহর, তৌহিদে বিশ্বাসী মানুষের এবং সব মুসলমানের।

খতিবের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন মুফতি আব্দুল মালেক। তাঁর বক্তব্য ঘিরে জামায়াতপন্থীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়। তাঁদের কেউ কেউ খতিবের অপসারণের দাবিও জানান। পাশাপাশি বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান কেউ কেউ।

অন্যদিকে, মুফতি আব্দুল মালেকের পক্ষে অবস্থান নেন বিএনপিসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতাকর্মীরা। কওমি ধারার আলেমদের একটি বড় অংশও তাঁর পাশে থাকার ঘোষণা দেন।

শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মসজিদ এলাকায় বাড়তি সতর্কতা দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কে এই মুফতি আব্দুল মালেক?

মুফতি আব্দুল মালেক দেশের অন্যতম পরিচিত গবেষক আলেম। আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলেও এ পদে পরিবর্তন আনা হয়নি।

মুফতি আব্দুল মালেক বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ইমামতি করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে, খতিবের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে শুক্রবারের এই বিক্ষোভ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।