বিরোধী দলের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি: চিফ হুইপ
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, মাত্র ছয়টি আসন পেয়ে সরকার পতনের হুমকি দেওয়া রাজনৈতিক দলের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরি। পাঁচ-ছয় মাসের একটি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে বিরোধী দলের লংমার্চের মতো কর্মসূচি হঠকারী সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। এ সময় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিগত সরকারের সময় মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ এবং রাজধানীর যান চলাচল নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সরকার পতনের হুমকি নিয়ে যা বললেন চিফ হুইপ
বিরোধী রাজনৈতিক দলের সরকার পতনের হুমকির সমালোচনা করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদে মাত্র ছয়টি আসন পাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মসূচির বিষয়ে মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁর মতে, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই সরকার পতনের দাবিতে কর্মসূচি দেওয়া রাজনৈতিকভাবে হঠকারী সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, পাঁচ-ছয় মাসের সরকারকে ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে লংমার্চের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করা বাস্তবসম্মত নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সেই মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন বলে তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
চিফ হুইপের এ মন্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি ও সরকারের প্রতি তাদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে অনুষ্ঠানে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম উল্লেখ করে থাকলে তা নিশ্চিত করতে বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রয়োজন।
বিগত ১৭ বছরের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য
বক্তব্যে বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ওই সময়ে মানুষ ভয়ে ফোনে কথা বলার সাহস পেতেন না। তবে বর্তমানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারছেন।
নূরুল ইসলাম মনির ভাষ্য, মানুষের মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর এই বক্তব্যে বিগত সরকারের সময় মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বর্তমান সময়ের সঙ্গে আগের সময়ের তুলনা করেন। তাঁর মতে, মানুষ এখন নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে বিভিন্ন পক্ষের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যখাতের বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন নূরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও জনগণের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে চিকিৎসাসেবা, রোগ প্রতিরোধ, হাসপাতালের সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়। তবে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য সেবা সহজলভ্য করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়টিও আলোচনার প্রাসঙ্গিক অংশ হিসেবে উঠে আসে। তবে বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করার বিষয়ে তিনি কোন অর্থবছর বা কোন ভিত্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন, তা বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি।
হামের টিকা না দেওয়া নিয়ে অভিযোগ
স্বাস্থ্যখাতের প্রসঙ্গে গত দুই বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তাঁর বক্তব্য, টিকা না দেওয়ার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হচ্ছে।
হাম একটি সংক্রামক রোগ। শিশুদের মধ্যে এ রোগের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত টিকাদান এবং প্রয়োজনীয় টিকার আওতায় সব শিশুকে আনা গুরুত্বপূর্ণ। টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সচল রাখা এবং বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে গত দুই বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি—চিফ হুইপের এই দাবির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য দিয়ে আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে টিকাদান কার্যক্রমের ঘাটতি এবং বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সরকারি পরিসংখ্যান ও জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য বিবেচনা করা জরুরি।
ঢাকায় বেপরোয়া রিকশা চলাচল নিয়ে উদ্বেগ
রাজধানী ঢাকার যান চলাচল পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ঢাকায় বেপরোয়া রিকশা চলাচল চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ, সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন মানার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কে রিকশা চলাচল, যানবাহনের গতির পার্থক্য এবং নির্ধারিত লেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চালকদের জীবিকা, যাত্রীদের যাতায়াতের প্রয়োজন এবং সড়কের ধারণক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ও নিয়মিত তদারকি যানজট কমাতে সহায়ক হতে পারে।
রিকশাচালকদের নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ
রিকশা চলাচল নিয়ে বক্তব্যের একপর্যায়ে নূরুল ইসলাম মনি অভিযোগ করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির সন্ত্রাসীরা এখন রিকশাচালক হিসেবে হাজির হয়েছে।
এটি চিফ হুইপের রাজনৈতিক অভিযোগ। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের বাইরে কোনো স্বাধীন যাচাই বা নির্দিষ্ট প্রমাণের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন না করে তাঁর বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে আইন প্রয়োগ, চালকদের প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং অপরাধের অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বক্তব্যে উঠে এলো তিনটি বিষয়
বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে নূরুল ইসলাম মনি মূলত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেন। প্রথমত, সরকার পতনের দাবিতে বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করেন তিনি। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করা এবং হামের টিকাদান নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তৃতীয়ত, রাজধানীতে বেপরোয়া রিকশা চলাচল ও এ-সংক্রান্ত রাজনৈতিক অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও উঠে আসে। এসব ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।























