শীতকালীন সবজি ও মাছের বাজার চড়া, স্থিতিশীল মুরগির দাম
- আপডেট সময় : ০১:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর সবজির বাজারে অস্বস্তি কাটছে না। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। শীত মৌসুম আসন্ন হলেও দাম কমার পরিবর্তে অনেক সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম, যার প্রতি কেজির দাম ১৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এ ছাড়া বেগুন, গাজর ও কাঁচা মরিচের দামও ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে সবজির এমন চিত্র দেখা গেছে।
শিম ১৮০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা কেজি
রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। বেগুনের দাম ১০০ টাকা কেজি। এ ছাড়া করলা, শসা ও ঝিঙার মতো সবজি কিনতেও ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
বাজারে প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। কাঁচা মরিচের দামও কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা। অন্যদিকে পটল ও কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। বরবটির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। লাউয়ের আকারভেদে প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
এ ছাড়া প্রতি কেজি ঢেঁড়স ও ধুন্দুল ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা। তবে বাজারভেদে এসব পণ্যের দামে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
পরিবহন খরচে বাড়ছে সবজির দাম
সবজির বাড়তি দামে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জামাল উদ্দিন বলেন, প্রায় সব ধরনের সবজিই ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে বিক্রি হচ্ছে। এত বেশি দামে সবজি কেনা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, শীত মৌসুম আসতে চলেছে। এ সময়ে সবজির দাম কম থাকার কথা থাকলেও বাজারে উল্টো বেশি দাম দিতে হচ্ছে। বিক্রেতারা পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াকে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
সোহেলের ভাষ্য, আগে যে পরিমাণ সবজি কিনতেন, এখন খরচ সামলাতে প্রতিটি পণ্য অল্প করে কিনতে হচ্ছে। এক কেজির পরিবর্তে কোনো কোনো সবজি আধা কেজি করে কিনছেন তিনি। এতে পরিবারের নিত্যদিনের বাজারের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
সরবরাহ কম থাকায় বাজারে চাপ
রাজধানীর রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা সজিব বলেন, বর্তমানে বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্য অনেক সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
তার মতে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি সবজির বাজারে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি শীতকালীন সবজি বাজারে আসার আগে আগের মৌসুমের অনেক সবজির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি রয়েছে।
খাদিমুল ইসলাম আরও বলেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন সবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে বাজারে উঠলে দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বস্তির অপেক্ষায় সাধারণ ক্রেতারা
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় এবং সবজির সরবরাহের ওঠানামা মিলিয়ে খুচরা বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যব্যয়ে। দাম বেশি থাকায় অনেক ক্রেতাই প্রয়োজনের তুলনায় কম সবজি কিনছেন।
শীতকালীন সবজির নতুন সরবরাহ বাজারে এলে দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা। তবে আপাতত বাজারে স্বস্তি ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রেতারা। পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সবজির দাম কমাতে সহায়ক হতে পারে।




















