মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার ছক ট্রাম্পের, দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- আপডেট সময় : ০১:১৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন সামরিক বিকল্প তৈরি করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেন্টাগনকে সামরিক বিকল্প তৈরির নির্দেশ
দ্য আটলান্টিকের বুধবারের প্রতিবেদনে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব হলো প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি ও উপস্থাপন করা। তবে সম্ভাব্য ইরান অভিযান নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা তিনি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার পরিধি, লক্ষ্যবস্তুর তালিকা এবং চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্পের কয়েকজন উপদেষ্টা মনে করছেন, হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান চালানো কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের বিকল্পই খোলা রয়েছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ট্রাম্পই নেবেন।
ইরানের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে পেন্টাগন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে।
সম্ভাব্য অভিযানে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে এই নির্দেশনায় কোনো নির্দিষ্ট হামলার তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়কে বিবেচনায় রেখে সামরিক পদক্ষেপের সময় নির্ধারণ করা হতে পারে। গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের দীর্ঘ বৈঠকের পর এ বিষয়ে পরিকল্পনা এগিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা
বুধবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এর পর ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই নেতার মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় ফোনালাপ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
সংঘাতের পর কূটনৈতিক আলোচনা থমকে আছে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে সরাসরি সংঘাত শুরু হয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলা ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও বিঘ্নিত হয়।
পরে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুনে একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সমুদ্রপথে চলাচলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কূটনৈতিক আলোচনা অচল হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রস্তুতির খবর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।




















