কাতার উপকূলে জাহাজে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- আপডেট সময় : ০১:০০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি ট্যাংকার জাহাজে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। তবে হতাহতদের সঠিক সংখ্যা এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
কাতারের উপকূল থেকে ৯৪ কিলোমিটার দূরে হামলা
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) কাতারের মদিনাত আশ শামাল থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে একটি ট্যাংকারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার পর জাহাজটিতে হতাহতের ঘটনা ঘটলেও ঠিক কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা জানায়নি সংস্থাটি।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলার শিকার জাহাজটি কোন দেশের, সেটিও এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যেই কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে নতুন এই হামলার ঘটনা ঘটল।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কাজ করা প্রকাশনা ‘দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ’ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উপসাগরের পশ্চিম অংশে কোনো ট্যাংকারে হামলার এটিই প্রথম খবর। কাতারের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) মধ্যে ঘটনাটি ঘটলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি কাতার।
হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে হামলা
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতেই জাহাজে হামলার ঘটনা বেশি ঘটেছে। এই সরু সমুদ্রপথটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
চলতি মাসে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে ৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও। সংস্থাটির হিসাবে, গত সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর মিলিয়ে যতগুলো হামলা হয়েছিল, চলতি মাসের এই সংখ্যা তার প্রায় অর্ধেক।
তেল পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
তবে যুদ্ধের জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখেছে।
হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি বেড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সাত দিনের গড় ছিল প্রতিদিন ১ কোটি ৮৩ লাখ ব্যারেল। যুদ্ধ শুরুর আগের ১২ মাসে এই গড় ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল।
























