বেপরোয়া অটোরিকশায় বাড়ছে দুর্ঘটনা, থমকে যাচ্ছে জীবন
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
একটি অটোরিকশার কয়েক সেকেন্ডের বেপরোয়া গতি বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের পুরো জীবন। প্রতিদিনই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আহত হয়ে হাসপাতালে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ হারাচ্ছেন অঙ্গ, কেউ মাসের পর মাস শয্যাশায়ী থাকছেন। আবার কারও জন্য একটি দুর্ঘটনাই হয়ে উঠছে সারাজীবনের বোঝা।
অটোরিকশার ধাক্কায় পা হারালেন ৭৬ বছরের রওশন
এমনই এক দুর্ঘটনার শিকার ৭৬ বছর বয়সী রওশন আলী। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে স্বজনদের ভরসা হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু বেপরোয়া অটোরিকশার ধাক্কায় এখন তিনিই অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তাকে বাঁচাতে গিয়ে কেটে ফেলতে হয়েছে ডান পা।
চিকিৎসার পেছনে নিজের সঞ্চয়ের সবটুকু ব্যয় করেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়লেও জীবনযুদ্ধে কখনো হার মানেননি রওশন। কিন্তু সড়কে অটোরিকশার এক ধাক্কায় বদলে গেছে তার পুরো জীবন।
রওশন আলী বলেন, ‘আমি একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলাম। আমার টাকা-পয়সা সব শেষ করে দিয়েছে। এখন আমি পথের ভিখারি। আপনারা দোয়া করে যদি অটোরিকশা বাতিল করেন, তাহলে মানুষ বাঁচবে।’
রাস্তা পার হতে গিয়ে আহত পাঁচ বছরের শিশু
শুধু রওশন আলী নন, অটোরিকশার দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই আহত হচ্ছেন শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
হাসপাতালের মেঝেতে তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছিল পাঁচ বছরের শিশু আবদুল্লাহ। রাস্তা পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় সে।
শিশুটির বাবা জানান, খাবার কেনার জন্য ছেলেকে নিয়ে রাস্তার পাশের দোকানে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি অটোরিকশা এসে শিশুটিকে ধাক্কা দেয়।
চাকরির স্বপ্ন থামিয়ে দিল দুর্ঘটনা
নতুন চাকরির খোঁজে সাভারের পথে বেরিয়েছিলেন মাসুদ। সামনে ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু অটোরিকশার দুর্ঘটনায় এখন হাসপাতালের চার দেয়ালে বন্দি তিনি।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মাসুদ বলেন, একটি গাড়ি আসতে দেখে অটোরিকশার চালক সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। পরে তাকে খাম্বা ও দেয়ালের মাঝখানে চাপা দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসায় ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তবু ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তার।
দুর্ঘটনায় থমকে যায় পুরো পরিবার
একটি সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের শরীরেই আঘাত করে না। এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারের ওপর। হাসপাতালের বিছানায় পড়ে থাকা একজন রোগীর সঙ্গে থমকে যায় পরিবারের আয়-রোজগার। একই সঙ্গে বাড়তে থাকে চিকিৎসার খরচ এবং অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ভবিষ্যৎ।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এমন দুর্ঘটনা আরও মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই চালকদের প্রশিক্ষণ, গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়কে চলাচলের নিয়ম মানানো এবং দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর নজরদারি জরুরি।
সূত্র: স্টার নিউজ





















