খুলনায় ছেলের পর এবার বাবাকে গুলি করে হত্যা
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
খুলনার রূপসা উপজেলায় ছেলে জয় ঢালীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ৫০ দিন পর এবার তার বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাড়ির সামনে বসে ছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলার পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা গুরুতর আহত আক্তার ঢালীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রূপসা থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কী কারণে হত্যা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ
আক্তার ঢালীকে কারা এবং কী কারণে গুলি করে হত্যা করেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তবে নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। একই পরিবারের বাবা ও ছেলেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
৫০ দিন আগে নিহত হন ছেলে জয়
এর আগে গত ১৫ আগস্ট আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যাকাণ্ডের ৫০ দিন পর একই পরিবারের আরেক সদস্য আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটল।
জয় ঢালী হত্যাকাণ্ডের পর এবার তার বাবা আক্তার ঢালীর হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহত আক্তার ঢালীর মরদেহের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




















