মানবতাবিরোধী অপরাধ: ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল
- আপডেট সময় : ১২:৪০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
ইনুর ১০ বছরের সাজা
এর আগে গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেন। প্রতিটি অভিযোগে তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট ১০ বছরই কারাগারে থাকতে হবে ইনুকে।
রায়ে বলা হয়, রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায় ইনুর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে।
এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহযোগিতার দায়ে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তির অভিযোগেও ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
ইনুর বিরুদ্ধে আট অভিযোগ
প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যা দেন ইনু। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪-দলীয় জোটের সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত থেকে ইনু ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও সহায়তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তালিকা তৈরি এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বোমা হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে।
পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার এবং হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়।
ষষ্ঠ অভিযোগে ১৪-দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।
সপ্তম অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
অষ্টম অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এখন প্রসিকিউশনের করা আপিলের পর ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে কি না, তা উচ্চতর আদালতের শুনানিতে নির্ধারিত হবে।





















