ফরিদপুরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষে যৌন উত্তেজক ওষুধ।। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন
- আপডেট সময় : ০৫:৪৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৯০ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরের সবজাননেসা মহিলা কামিল (এমএ) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসাইনের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। রোববার দুপুরে মাদ্রাসার সামনের সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামি শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৮৯ সালে ফরিদপুর শহরের পূর্বখাবাসপুর এলাকায় সবজাননেসা মহিলা কামিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানটিতে আবাসিক সুবিধাসহ পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ও ৩০ জন শিক্ষক, শিক্ষিকা রয়েছেন। মো. আলমগীর হোসাইন ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন বরাদ্দ, অনুদান ও টিউশন ফির অর্থ আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ সময় মানববন্ধন কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেওয়া দুই দফার তিন লাখ টাকা, জেলা পরিষদের দেওয়া দুই লাখ টাকা, মন্ত্রণালয়ের অডিটের নামে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে নেওয়া এক লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাদ্রাসার অনুদানের জন্য প্রকাশনীর বরাদ্দ দেওয়া এক লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, বিএমএড কর্মসূচি থেকে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ এবং কোটেশন ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবই বিক্রিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ফাজিল প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে চাকরি ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়। শিক্ষার্থীরা গত ১৬ আগস্ট বিষয়টি হাতেনাতে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া, বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগও ওঠে। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে ছুটি নিয়ে মাদ্রাসা ত্যাগ করেন অধ্যক্ষ আলমগীর হোসাইন। এরপর তিনি আর মাদ্রাসায় ফেরেননি বলে জানান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
এসব বিষয় নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ ১৯ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (শিক্ষা কল্যাণ) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো গত ২২ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় অধ্যক্ষের কক্ষের টেবিলের ড্রয়ার থেকে বিভিন্ন যৌন উত্তেজক ওষুধ ও সরঞ্জাম পাওয়া যায় বলে জানান মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
আমরা মনে করি, রক্ষকই যখন ভক্ষক, তখন তাঁর অপসারণ ছাড়া কোনো পথ নেই।’
এছাড়াও শিক্ষাথরীরা তাঁর বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে যৌন হয়রানির অভিযোগও করেন। তাঁদের দাবি, অধ্যক্ষকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একজন অধ্যক্ষের কক্ষে যখন যৌন উত্তেজক ওষুধ পাওয়া যায়, তখন তাঁর কতটা অধঃপতন হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। তাঁর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক প্রমাণও পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় তাঁর দ্রুত অপসারণ দাবি করছি।’
অভিযোগগুলো ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসাইন। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আশিকুর রহমান বাচ্চুর সঙ্গে মতানৈক্য হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমাকে শোকজ করা হয়েছে এবং আমি তার লিখিত জবাবও দিয়েছি। এ ছাড়া ১৬ আগস্ট থেকে আমার কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে, আমি যেতেও পারিনি। এ সময়ে তাঁরা আমার কক্ষে ওষুধ কেন, অস্ত্রও রেখে দিতে পারত।’
সহকারী কমিশনার (শিক্ষা ও কল্যাণ) ইনসানা তানজীন ইকো বলেন, ‘অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্তাধীন।






















