সুবিধাবঞ্চিতদের খাবার খাওয়ালেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর বিজয় সরণির ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিন ফুল, পানি ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন পথশিশু, বয়স্ক নারীসহ বেশ কিছু সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। নিয়মিত যাতায়াতের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ি দেখলেই দূর থেকে তাকে সালাম দিতেন তারা। প্রধানমন্ত্রীও তাদের সেই সালাম গ্রহণ করতেন।
প্রতিদিনের এই ছোট্ট অভিবাদনের বিষয়টি একসময় নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়। বিজয় সরণি দিয়ে যাতায়াতের সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের দেখতেন। পাশাপাশি এসব মানুষের জীবনযাপন, জীবিকার সংগ্রাম ও অসহায়ত্বও তাঁর নজরে আসে।
তবে ৩ অক্টোবর, শনিবার, প্রধানমন্ত্রী শুধু তাদের সালাম গ্রহণ করেই থেমে থাকেননি। তাদের কথা মনে রেখে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খাবারের আয়োজন
প্রধানমন্ত্রী তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিজয় সরণিতে থাকা পথশিশু, বয়স্ক নারী ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য দুপুরের একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর আতিকুর রহমান রুমন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে দুপুরে তাদের ডেকে নিয়ে বিজয় সরণির একটি রেস্টুরেন্টে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
সেখানে পথশিশু, বয়স্ক নারীসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো একসঙ্গে বসে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। আকস্মিকভাবে এমন একটি আয়োজন পেয়ে তাদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়।
সালাম গ্রহণের পাশাপাশি খোঁজ নিলেন তাদের
বিজয় সরণিতে প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেন এসব মানুষ। কেউ ফুল বিক্রি করেন, কেউ পানি বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করেন। আবার কারও জীবিকার প্রধান অবলম্বন পথের ওপর ছোটখাটো বিকিকিনি।
ব্যস্ত নগরীর সড়কে প্রতিদিন তাদের দেখা গেলেও অনেক সময় এসব মানুষের জীবনসংগ্রাম সাধারণ মানুষের নজরের আড়ালেই থেকে যায়। কিন্তু নিয়মিত যাতায়াতের সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের দেখেছেন এবং তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি দেখলে দূর থেকে সালাম দেওয়া ছিল তাদের নিয়মিত অভ্যাস। প্রধানমন্ত্রীও সেই সালাম গ্রহণ করতেন। সেই পরিচিত দৃশ্যের ধারাবাহিকতায় এবার তাদের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হলো।
আনন্দিত ও অভিভূত সুবিধাবঞ্চিত মানুষ
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজনের বিষয়টি জানতে পেরে আনন্দিত হয়ে ওঠেন সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষ। অনেকেই জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের সালাম গ্রহণ করেন—এটি তারা জানতেন এবং নিয়মিত দেখতেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা মনে রেখে খাবারের ব্যবস্থা করবেন, এমনটি তারা কখনো ভাবেননি। হঠাৎ করে এমন আয়োজন তাদের কাছে ছিল আনন্দের ও আবেগঘন একটি মুহূর্ত।
একসঙ্গে বসে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতার কথাও উঠে আসে। তারা বলেন, প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী তাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা মনে রেখেছেন—এটি তাদের কাছে বিশেষ অনুভূতির বিষয়।
মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে জীবিকার জন্য প্রতিদিন সংগ্রাম করা পথশিশু, বয়স্ক নারী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একবেলা খাবারের এই আয়োজন তাদের সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আয়োজিত এই খাবারের মধ্য দিয়ে নিয়মিত সালাম দেওয়া মানুষগুলোর সঙ্গে একটি মানবিক সম্পর্কের বিষয়ও সামনে এসেছে। প্রতিদিনের ব্যস্ত যাতায়াতের পথে দেখা হওয়া মানুষগুলোর জীবনযাপনের বিষয়টি যে তাঁর নজরে ছিল, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেটিই প্রকাশ পেয়েছে।
বিজয় সরণির ওই সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কাছে তাই ৩ অক্টোবরের দুপুরটি ছিল অন্যরকম। নিয়মিত দূর থেকে যাকে সালাম দিতেন, তাঁর পক্ষ থেকেই যখন দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হলো, তখন স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত হয়ে ওঠেন তারা।




















