রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে আলেমদের কাজ করার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০১:৫০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
শুধু বয়ান ও ধর্মীয় বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে আলেম-ওলামাদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আয়োজিত জাতীয় মুফাসসির সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুগে যুগে পথহারা জাতিকে সঠিক পথ দেখানোর ক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাই বর্তমান সময়েও সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। মানুষের কল্যাণ ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে আলেমদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শুধু বয়ান নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্বেও ভূমিকা
সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, আলেম-ওলামাদের কাজ শুধু মানুষের সামনে বক্তব্য দেওয়া বা বয়ান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রয়োজনের সময় তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, আলেমরা যুগে যুগে মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেছেন। ফলে রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম, অসঙ্গতি ও সমস্যার বিষয়ে তাদেরও দায়িত্বশীলভাবে কথা বলতে হবে।
তবে এ ক্ষেত্রে বক্তব্যের ভাষা ও ধরন নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। কারও বক্তব্যে যেন অযথা কাউকে খোঁচা দেওয়া বা ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার বিষয় না থাকে, সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানান।
সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ইতিবাচক কথা বলার আহ্বান
সমাজে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে আলেমদের তার বিরুদ্ধে ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে কথা বলার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সমাজের সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি তা সমাধানের পথও তুলে ধরতে হবে। মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়—এমন বক্তব্যের পরিবর্তে সমাজে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তার মতে, আলেম সমাজের বক্তব্য সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই তাদের প্রতিটি বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন।
একজনের আচরণে যেন পুরো আলেম সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়
দু-একজনের আচরণের কারণে যেন পুরো আলেম সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, আলেমদের ব্যক্তিগত আচরণ ও বক্তব্যের প্রভাব শুধু ব্যক্তির ওপর পড়ে না; অনেক সময় তা পুরো আলেম সমাজের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই প্রত্যেককে নিজের অবস্থান ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
এ সময় তিনি আলেম-ওলামাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা, সংযম ও ইতিবাচক ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে আইনের সমালোচনা
সংসদে কোরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে যেসব আইন পাস করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন, সেগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করার কথাও বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি আলেমদের রাষ্ট্রের আইন, নীতি ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে সমালোচনার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান
জাতীয় মুফাসসির সম্মেলনে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমানের আহ্বানের মূল বিষয় ছিল—আলেম-ওলামাদের ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।
তিনি বলেন, সমাজে অন্যায় বা অসঙ্গতি দেখা দিলে তা নিয়ে কথা বলা যেমন প্রয়োজন, তেমনি মানুষের মধ্যে বিভেদ না বাড়িয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করাও জরুরি।
রাজধানীর কাকরাইলে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা, সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীলতার বিষয়গুলো নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।





















