শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স, পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ
- আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
ফ্রান্সে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। নিরাপদ ও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং সরকারি অর্থায়ন বাড়ানোর দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ।
আন্দোলনের জেরে দেশজুড়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ
শুক্রবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সার্সবার্গে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় আশপাশের এলাকা কাঁদানে গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
মার্সেইতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ফায়ারওয়ার্কস ছোড়ার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে রেঁসে একটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী প্যারিসেও বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।
শ্রেণিকক্ষ ও অর্থায়ন নিয়ে ক্ষোভ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি অর্থায়নের ঘাটতির কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নেই। অনেক শ্রেণিকক্ষে জায়গার তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। ফলে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংকট দূর করার দাবি জানাচ্ছে আন্দোলনকারীরা।
এক সপ্তাহে আটক প্রায় ২ হাজার
গত সপ্তাহে রাজধানী প্যারিস থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এরপর ধীরে ধীরে তা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংসতা দেখা দেয়।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বিক্ষোভের সময় সম্পদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ আটক বিক্ষোভকারীদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী এডোয়ার্ড জেফরে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন সন্তানদের বিক্ষোভস্থলে যেতে না দেন।
বাজেট কাটছাঁট নিয়ে রাজনৈতিক চাপ
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে প্রায় ছয় মাস পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের জনপ্রিয়তা নিয়ে বিভিন্ন জরিপে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
সরকারের বাজেট কাটছাঁটের প্রভাব শিক্ষা খাতেও পড়েছে বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষা খাতে ব্যয় কমানোর পরিবর্তে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র: রয়টার্স






















