০২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা নতুন করে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

দীর্ঘায়ুর যুগে নতুন পরিকল্পনার প্রয়োজন

এবার আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য—‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’। রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং জীবনমানের উন্নয়নের কারণে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পৃথিবীর সব দেশেই প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

তার মতে, দীর্ঘায়ুর এই সময়ে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্য

রাষ্ট্রপতি বলেন, বার্ধক্যে উপনীত হওয়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ। তাই প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য প্রবীণদের প্রয়োজন ও অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বয়স্ক ভাতায় ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা

রাষ্ট্রপতি জানান, এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতা প্রদানের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের কল্যাণ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রবীণরা দেশের শিকড় ও অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার

প্রবীণদের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা শুধু অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।

তবে প্রবীণদের একটি বড় অংশ অবনতিশীল স্বাস্থ্য, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রবীণদের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ এবং নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ মানুষের সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা নতুন করে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

দীর্ঘায়ুর যুগে নতুন পরিকল্পনার প্রয়োজন

এবার আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য—‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’। রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং জীবনমানের উন্নয়নের কারণে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পৃথিবীর সব দেশেই প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

তার মতে, দীর্ঘায়ুর এই সময়ে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্য

রাষ্ট্রপতি বলেন, বার্ধক্যে উপনীত হওয়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ। তাই প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য প্রবীণদের প্রয়োজন ও অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বয়স্ক ভাতায় ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা

রাষ্ট্রপতি জানান, এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতা প্রদানের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের কল্যাণ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রবীণরা দেশের শিকড় ও অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার

প্রবীণদের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা শুধু অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।

তবে প্রবীণদের একটি বড় অংশ অবনতিশীল স্বাস্থ্য, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রবীণদের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ এবং নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ মানুষের সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।