নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্যাস পাঠাতে পারবে না কাতার
- আপডেট সময় : ১২:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
কাতার থেকে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি কাতারএনার্জি তাদের ঘোষিত ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতির মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে।
আগে অক্টোবর পর্যন্ত ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছিল কাতারএনার্জি। এখন তা নভেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশকে নোটিশ দিয়েছে কাতারএনার্জি
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইতালির এডিসন এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের ক্রেতাদের এ বিষয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে কাতারএনার্জি।
দুটি বাণিজ্যিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বাংলাদেশকেও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।
কোনো প্রতিষ্ঠান চুক্তিতে থাকা দায়িত্ব পালন করতে না পারলে বিশেষ পরিস্থিতিতে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করতে পারে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তিগত দায় থেকে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে অব্যাহতি পায়।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ, কমেছে কাতারের গ্যাস রপ্তানি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে কাতারের এলএনজি রপ্তানিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
গত এপ্রিলেই কাতারএনার্জি প্রথম ফোর্স মেজর নোটিশ জারি করেছিল। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এখন এর মেয়াদ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
রয়টার্সের হিসাবে, আগস্টের শেষ পর্যন্ত কাতারের গ্যাস রপ্তানি প্রায় ৯৬ শতাংশ কমেছে। ওই সময় দেশটি মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৫০৯টি কার্গো।
শীত মৌসুমে বাড়তে পারে গ্যাসের দাম
এদিকে সামনে শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে হতে পারে।
ইউরোপের চাহিদা বাড়লে এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে এলএনজি সংগ্রহের প্রতিযোগিতাও বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কাতার বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই নভেম্বর পর্যন্ত সরবরাহে অনিশ্চয়তা থাকলে দেশের গ্যাস ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স






















