ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুসিচের পদত্যাগ
- আপডেট সময় : ১১:৫২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুসিচ। দুর্নীতির অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের জনঅসন্তোষের মধ্যে চলা এই আন্দোলনের পর তার পদত্যাগে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ খুলে গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী অক্টোবরে সার্বিয়ায় আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চলতি বছরেই দেশটিতে দুই দফা ভোট হতে পারে। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেও আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিজের দল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়বেন ভুসিচ।
পদত্যাগের পর ভুসিচের বক্তব্য
পদত্যাগের পর রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ভুসিচ। সেখানে তিনি বলেন, প্রায় ৯ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে তার সরকার দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এর আগে জুন মাসেই পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন ভুসিচ। সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে তার রাজনৈতিক ভূমিকা এখানেই শেষ হচ্ছে না। আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিজের দল প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রেলস্টেশনের ছাদ ধসের পর শুরু হয় বড় আন্দোলন
ভুসিচের সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও নিয়মকানুন এড়িয়ে চলার অভিযোগে ক্ষোভ ছিল। ২০২৪ সালে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর সেই ক্ষোভ বড় ধরনের বিক্ষোভে রূপ নেয়।
পরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পাশাপাশি শ্রমিক ও কৃষকরাও আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রেলস্টেশনটির দুর্ঘটনা ভুসিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির দীর্ঘদিনের শাসনামলের নানা অনিয়মের চিত্র সামনে এনেছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ
আন্দোলনের মুখে ভুসিচ সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও পদত্যাগ করেন। তবে তাতেও বিক্ষোভ থামেনি। পুরো গ্রীষ্মজুড়ে আন্দোলন চলার পর পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। এতে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভুসিচের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পদত্যাগের পর সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে।
দুই দফা নির্বাচনের পথে সার্বিয়া
ভুসিচ জানিয়েছেন, আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের এক মাসেরও বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অক্টোবরে পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিনের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটেই এই নির্বাচন ডাকা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রগ্রেসিভ পার্টির সদস্য আনা ব্রনাবিচ।
এদিকে সার্বিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস জানিয়েছে, সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন ভুসিচ। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থীও রয়েছেন।
নির্বাচনে মুখোমুখি হবে শিক্ষার্থী ও বিরোধীরা
আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভুসিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির মুখোমুখি হবে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ‘স্টুডেন্টস উইন’। পাশাপাশি পশ্চিমাপন্থি বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’ও নির্বাচনে অংশ নেবে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ভুসিচ। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি।
ভুসিচ প্রকাশ্যে সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করার পক্ষে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগের জন্য সার্বিয়ার অর্থনীতিকে আরও উন্মুক্ত করেছেন।
























