বাসাইলে সেতুতে বাঁশকাণ্ড, প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ
- আপডেট সময় : ০৫:০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে বাসাইল থেকে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় বদলি করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে কাজী ফাত্তাউর রহমানকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ২৭ সেপ্টেম্বর অপরাহ্ন থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
সেতুতে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় তদন্ত
বাসাইলের মাইজখাড়া এলাকায় সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই ঘটনায় এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন।
সেতু পরিদর্শনে দুদক
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নির্মাণাধীন সেতুটিতে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের কর্মকর্তারা সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলারের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করেন।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ফুটপাতের স্ল্যাবে বাঁশ ব্যবহারের পাশাপাশি রেলিংয়ের পিলারে প্রয়োজনের তুলনায় কম রড ব্যবহারের বিষয়টি নজরে এসেছে। দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
মামলায় সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে। অপর আসামি সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
১০ কোটি টাকার সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ
বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া সড়কের এই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।
স্থানীয়দের বাধার পরও রাতে ঢালাই
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় স্থানীয়রা মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। তাদের চলে যাওয়ার পর আবার রাতে কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর সেতুটির নির্মাণকাজ নিয়ে তদন্ত শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।






















