হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি যুদ্ধবিমানে জ্বালানি দেবে যুক্তরাজ্য
- আপডেট সময় : ০১:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এতে সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের আরএএফ আকরোতিরি ঘাঁটিতে থাকা ‘ভয়েজার’ ট্যাংকার বিমান অংশ নেবে।
সৌদির অনুরোধে সামরিক সহায়তা
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সামরিক সহায়তার অনুরোধ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, সহায়তাটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে এটি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
এই ব্যবস্থার আওতায় সৌদি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের হামলা
ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতে রয়েছে হুথিরা। ইয়েমেনের ওই সরকারের প্রতি সমর্থন রয়েছে সৌদি আরবেরও।
সাম্প্রতিক সময়ে হুথি ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এর জেরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব যুক্তরাজ্যের কাছে সামরিক সহায়তা চায়। পরে সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে সৌদি যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সহায়তার সিদ্ধান্ত নেয় লন্ডন।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম। তিনি বলেন, সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহের পথ খোলা রাখা জরুরি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ও আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদার। সৌদি আরবকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে যুক্তরাজ্য। নতুন এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




















