গ্রিনল্যান্ডে নতুন সামরিক ঘাঁটি খুলবে যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০১:০১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে শীতল যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি পুরোনো সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করা হবে। পাশাপাশি পূর্ব উপকূলে আরেকটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। চুক্তিটি মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সই হওয়ার কথা।
যেসব এলাকায় ঘাঁটি হবে
চুক্তির বিষয়ে অবগত দুই ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, সামরিক স্থাপনার জন্য নির্ধারিত দুটি স্থান হলো নারসারসুয়াক ও মেস্টারসভিগ।
নারসারসুয়াকে ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র ‘ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান’ নামে একটি সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করত। পরবর্তীতে ঘাঁটিটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে মাত্র কয়েক ডজন মানুষের বসবাস রয়েছে।
অন্যদিকে, মেস্টারসভিগে বর্তমানে ডেনমার্কের বিশেষ বাহিনীর একটি ইউনিট ‘সিরিয়াস ডগ স্লেজ প্যাট্রোল’ দায়িত্ব পালন করে। দুর্গম আর্কটিক অঞ্চলে কুকুরে টানা স্লেজ ব্যবহার করে এই বাহিনী টহল দিয়ে থাকে।
চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ হয়নি
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায়, বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত এর কিছু বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকতে পারে। তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
রয়টার্সের পক্ষ থেকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকারের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্রও চুক্তির বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।
তবে তিনি আগের একটি বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সুরক্ষিত হবে।
আর্কটিক নিরাপত্তায় ন্যাটোর ভূমিকা
ডেনমার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর কাঠামোর অধীনেই থাকবে। অর্থাৎ নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের চাপের পর এই চুক্তি হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ধারণার বিরোধিতা করেছেন। জানুয়ারিতে ট্রাম্পের বক্তব্য ও চাপ তীব্র হলে ন্যাটোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে।
শীতল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক উপস্থিতি
শীতল যুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। সে সময় দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল। এসব স্থাপনায় ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা ও সামরিক কর্মী দায়িত্ব পালন করতেন।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় সামরিক স্থাপনা হলো পিতুফিক স্পেস বেস। সেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন দুই সামরিক স্থাপনা চালু হলে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের তথ্য থেকে জানা গেছে।























