ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রাথমিক ফলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাবে দলটি দলীয় তালিকার ভোটে ৫৭ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই রাশিয়ায় প্রথম স্টেট ডুমা নির্বাচন। তিন দিনব্যাপী ভোটে প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৭ শতাংশ।
ইউনাইটেড রাশিয়ার বড় ব্যবধান
প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ৩৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ ভোট গণনার পর ইউনাইটেড রাশিয়া ৫৭ দশমিক ১৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছে ১৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ, এলডিপিআর ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং নিউ পিপল ৮ দশমিক ০১ শতাংশ ভোট। এ জাস্ট রাশিয়াও ৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে সংসদে আসন পাওয়ার পথে রয়েছে।
স্টেট ডুমার মোট ৪৫০টি আসনের মধ্যে ২২৫টি দলীয় তালিকার মাধ্যমে এবং বাকি ২২৫টি একক আসনে সরাসরি প্রার্থীদের ভোটে নির্ধারিত হয়। প্রাথমিক হিসাবে ইউনাইটেড রাশিয়ার প্রার্থীরা ২২৫টি একক আসনের মধ্যে ১৬১টিতে এগিয়ে ছিলেন।
যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন
ক্রেমলিন এই নির্বাচনকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের একটি পরীক্ষার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। একই সময়ে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার মধ্যেই ভোটগ্রহণের শেষ দিন পার হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে এবং মস্কো অঞ্চলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
নির্বাচন চলাকালে রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থায় সাইবার হামলা ও কারিগরি সমস্যার অভিযোগও ওঠে। তবে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব ঘটনার মধ্যেও ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বিরোধীদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক
এবারের নির্বাচনে যুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। উদারপন্থি ইয়াবলোকো পার্টিকে নির্বাচনের ব্যালট থেকে বাদ দিয়েছে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি কয়েকজন যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিক কারাগারে রয়েছেন বা বিদেশে অবস্থান করছেন।
নির্বাচনে ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ও রাশিয়ার দাবি করা কয়েকটি অঞ্চল এবং ক্রিমিয়াতেও ভোট নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এসব এলাকায় ভোটগ্রহণের বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
ফলে প্রাথমিক ফলাফলে ইউনাইটেড রাশিয়ার বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা এবং সংসদে দলটির নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকার চিত্রই ফুটে উঠেছে। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে সব ভোট গণনা শেষ হওয়া প্রয়োজন।