আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় এমপি গাজী নজরুল ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭০ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।
আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা
পুলিশ জানায়, শেরেবাংলা নগর থানায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই মামলায় অপর আসামি ওবায়দুল্লাহর বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তের পর সিআইডির ফরেনসিক টিমকে ডাকা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মরিয়ম খাতুনের বয়স ১৯ বছর বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়
মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের পর রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। পরে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়ানোর পর আলোচনা
এর আগে গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনার পর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় এখন আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ ও মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।























