০৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জানুয়ারিতে স্থানীয় ভোটের পরিকল্পনা ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি বাস্তবতার নিরিখেই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষা, পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজন না করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরীক্ষা শেষ হলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর আশা

ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না করার বিষয়ে কমিশন চিন্তা করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে যাতে নির্বাচন হয়, সেটি নিয়ে কমিশন চিন্তা করছে। বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে না। আশা করি, জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হবে।’

তবে জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু করার কথা বলা হলেও এখনো চূড়ান্ত ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। কমিশন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি নির্ধারণ করবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হওয়ায় জটিলতা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন নির্বাচন কমিশনার।

তিনি জানান, দেশের বিপুলসংখ্যক ভোটকেন্দ্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়। আবার শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ফলে একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা এবং ভোট আয়োজন করা হলে উভয় কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক, বৃত্তি ও টেস্ট পরীক্ষাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পরীক্ষা থাকে। এ কারণে পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইসি আনোয়ারুল বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। শুধু একটি বিষয় নয়, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বও বিবেচনায়

নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বড় ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিশেষ করে পাবলিক পরীক্ষার সময় পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দায়িত্বে তাদের মোতায়েন থাকতে হয়।

ইসি আনোয়ারুলের বক্তব্য অনুযায়ী, একই সময়ে পরীক্ষা ও নির্বাচন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়বে। এতে নির্বাচন ও পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করা কঠিন হতে পারে।

তাই পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনা করে নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রমজান, ঈদ ও পাবলিক পরীক্ষাও বিবেচনায়

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধু নভেম্বর-ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষাই নয়, আগামী বছরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

ইসি আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, রমজান, ঈদ, পূজা এবং এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কমিশন। এসব কর্মসূচির সঙ্গে ভোটের সময়সূচির সংঘাত যাতে না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন একসঙ্গে না করে পর্যায়ক্রমে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য থেকে জানা গেছে।

আগে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের পরিকল্পনা ছিল

এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা জানিয়েছিল। ওই খসড়া পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর করার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী ধাপগুলো আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে ওই সময়সূচি চূড়ান্ত ছিল না।

পরবর্তী সময়ে পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় নভেম্বর ও ডিসেম্বরের ভোট আয়োজন থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয় কমিশন। এখন জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানানো হয়েছে।

ইউপি দিয়ে শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছিল ইসি

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউপি নির্বাচন একটি পর্যায়ে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

তখন কমিশন চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ইউপি নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের আশা প্রকাশ করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বাস্তবতা ও পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।

ভোটের ৪০-৪৫ দিন আগে তফসিল

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ভোটের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ফলে জানুয়ারিতে ভোট শুরু করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তার আগেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনগুলোর তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

তবে কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কোন ধাপে এবং কোন তারিখে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

সরকারের চাপের কারণে সময় পরিবর্তন নয়

নির্বাচনের সময় পেছানোর পেছনে সরকারের কোনো চাপ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সরকারের কোনো চাপে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ পেছায়নি। বরং বাস্তবতা, আইন ও সংবিধানের বিষয়গুলো বিবেচনা করেই কমিশন নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করছে।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে চিঠি চালাচালির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো নজির নেই। নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং কমিশন নিজেদের প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন না করে পর্যায়ক্রমে ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন রয়েছে।

কমিশনের আগের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচন একটি পর্যায়ে যাওয়ার পর অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাবনা কমে গেছে। এখন পরীক্ষার সময়সূচি ও অন্যান্য জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরুর দিকে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে চূড়ান্ত তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পরিকল্পনাটি পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জানুয়ারিতে স্থানীয় ভোটের পরিকল্পনা ইসির

আপডেট সময় : ০৩:১০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি বাস্তবতার নিরিখেই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষা, পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজন না করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরীক্ষা শেষ হলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর আশা

ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না করার বিষয়ে কমিশন চিন্তা করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে যাতে নির্বাচন হয়, সেটি নিয়ে কমিশন চিন্তা করছে। বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে না। আশা করি, জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হবে।’

তবে জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু করার কথা বলা হলেও এখনো চূড়ান্ত ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। কমিশন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি নির্ধারণ করবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হওয়ায় জটিলতা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন নির্বাচন কমিশনার।

তিনি জানান, দেশের বিপুলসংখ্যক ভোটকেন্দ্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়। আবার শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ফলে একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা এবং ভোট আয়োজন করা হলে উভয় কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক, বৃত্তি ও টেস্ট পরীক্ষাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পরীক্ষা থাকে। এ কারণে পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইসি আনোয়ারুল বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। শুধু একটি বিষয় নয়, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বও বিবেচনায়

নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বড় ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিশেষ করে পাবলিক পরীক্ষার সময় পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দায়িত্বে তাদের মোতায়েন থাকতে হয়।

ইসি আনোয়ারুলের বক্তব্য অনুযায়ী, একই সময়ে পরীক্ষা ও নির্বাচন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়বে। এতে নির্বাচন ও পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করা কঠিন হতে পারে।

তাই পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনা করে নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রমজান, ঈদ ও পাবলিক পরীক্ষাও বিবেচনায়

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধু নভেম্বর-ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষাই নয়, আগামী বছরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

ইসি আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, রমজান, ঈদ, পূজা এবং এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কমিশন। এসব কর্মসূচির সঙ্গে ভোটের সময়সূচির সংঘাত যাতে না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন একসঙ্গে না করে পর্যায়ক্রমে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য থেকে জানা গেছে।

আগে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের পরিকল্পনা ছিল

এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা জানিয়েছিল। ওই খসড়া পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর করার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী ধাপগুলো আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে ওই সময়সূচি চূড়ান্ত ছিল না।

পরবর্তী সময়ে পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় নভেম্বর ও ডিসেম্বরের ভোট আয়োজন থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয় কমিশন। এখন জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানানো হয়েছে।

ইউপি দিয়ে শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছিল ইসি

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউপি নির্বাচন একটি পর্যায়ে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

তখন কমিশন চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ইউপি নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের আশা প্রকাশ করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বাস্তবতা ও পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।

ভোটের ৪০-৪৫ দিন আগে তফসিল

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ভোটের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ফলে জানুয়ারিতে ভোট শুরু করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তার আগেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনগুলোর তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

তবে কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কোন ধাপে এবং কোন তারিখে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

সরকারের চাপের কারণে সময় পরিবর্তন নয়

নির্বাচনের সময় পেছানোর পেছনে সরকারের কোনো চাপ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সরকারের কোনো চাপে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ পেছায়নি। বরং বাস্তবতা, আইন ও সংবিধানের বিষয়গুলো বিবেচনা করেই কমিশন নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করছে।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে চিঠি চালাচালির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো নজির নেই। নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং কমিশন নিজেদের প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন না করে পর্যায়ক্রমে ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন রয়েছে।

কমিশনের আগের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচন একটি পর্যায়ে যাওয়ার পর অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাবনা কমে গেছে। এখন পরীক্ষার সময়সূচি ও অন্যান্য জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরুর দিকে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে চূড়ান্ত তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পরিকল্পনাটি পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে।