সাংবাদিক আলিফকে ছয়টি গুলি, স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের
- আপডেট সময় : ১২:৩৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সাত থেকে আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
ময়নাতদন্তে শরীরে ছয়টি গুলির আঘাত
শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে সাংবাদিক আলিফের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, আলিফের বুকে তিনটি গুলির আঘাত ছিল। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। অন্য একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল।
এ ছাড়া কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে একটি গুলি মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাকি দুটি গুলির একটি মাথার ওপরের অংশের চামড়া এবং অন্যটি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আলিফকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল।
যেভাবে হত্যা করা হয় সাংবাদিক আলিফকে
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করেন আলিফ। পরে তিনি বিরিশিরি উতরাইল বাজারের উদ্দেশে রওনা হন।
পথে যাওয়ার পর নিজের মুঠোফোন দোকানে ফেলে আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি। এরপর প্রায় তিন মিনিটের মধ্যে আবার দোকানে ফিরে আসেন।
মুঠোফোন নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার সময় দুই যুবক সেখানে এসে দোকানদারের কাছে সিগারেট চান। এরপর তারা সাংবাদিক আলিফকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ওই দুই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা আলিফকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডটিকে পরিকল্পিত বলে ধারণা করেছিলেন। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়।
আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশ করতেন।
এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা আলিফকে কুপিয়ে জখম করেছিল। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়।
ওই ঘটনায় আলিফ বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন। পরে পুলিশ নাম উল্লেখ করা দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তবে বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
স্বামী হত্যার বিচার চান স্ত্রী
আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা স্বামী হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের দুটি শিশুসন্তান রয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে কীভাবে জীবন চালাবেন, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে আলিফের বড় ভাই শহীদ ইসলাম ফকির বলেন, সাংবাদিকতা করার কারণে তার ভাইয়ের অনেক শত্রু তৈরি হয়েছিল। তিনি ভাইকে নির্মমভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।




















