০১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

শিগগিরই মুসলিম শহরে পরিণত হবে প্যারিস: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, শিগগিরই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে। একই সঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ ইউরোপের নেতাদের সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশটিতে যা ঘটছে, তার সঙ্গে অভিবাসনের সম্পর্ক রয়েছে। তবে শিক্ষাব্যবস্থা বা অন্য কোনো বিষয় এর জন্য দায়ী নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগের দিন রোববারও একই ধরনের বক্তব্য দেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। সে সময় তিনি বলেন, ফ্রান্সের বিক্ষোভ ও সহিংসতার পেছনে অভিবাসন দায়ী। তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান।

অভিবাসন নিয়ে ইউরোপের নেতাদের প্রতি ট্রাম্পের আহ্বান

ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটিতে অভিবাসীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কারণে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেক আগেই তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে অবাধে দেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া ফ্রান্সের জন্য বড় ভুল।

ট্রাম্প আরও বলেন, শিগগিরই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে। ইউরোপের দেশগুলো সীমান্ত বন্ধ না করলে এবং বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধে জড়িতদের বহিষ্কার না করলে মহাদেশটির পতন অনিবার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্যারিসের ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার ধর্মীয় গঠন নিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো পরিসংখ্যান বা স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ফ্রান্সে বিক্ষোভ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গত শনিবার প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এসব কর্মসূচি সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় দুই হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য আহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এ ছাড়া পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেডের আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। মুখোশ পরা কিছু দাঙ্গাকারী বিভিন্ন পৌর ভবন, পুলিশ স্টেশন ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালান বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

কারফিউ জারির ঘোষণা, জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত

সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সোমবার গভীর রাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন বড় শহরে আংশিক কারফিউ জারির ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। কয়েক দিনের বিক্ষোভ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারেও অবৈধ অভিবাসন বন্ধের বিষয়টিকে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় অভিবাসন নিয়ে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের সত্যতা ও সেগুলোর মাধ্যমে জাতিগত ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

সূত্র: এনডিটিভি

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শিগগিরই মুসলিম শহরে পরিণত হবে প্যারিস: ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১২:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, শিগগিরই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে। একই সঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ ইউরোপের নেতাদের সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশটিতে যা ঘটছে, তার সঙ্গে অভিবাসনের সম্পর্ক রয়েছে। তবে শিক্ষাব্যবস্থা বা অন্য কোনো বিষয় এর জন্য দায়ী নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগের দিন রোববারও একই ধরনের বক্তব্য দেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। সে সময় তিনি বলেন, ফ্রান্সের বিক্ষোভ ও সহিংসতার পেছনে অভিবাসন দায়ী। তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান।

অভিবাসন নিয়ে ইউরোপের নেতাদের প্রতি ট্রাম্পের আহ্বান

ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটিতে অভিবাসীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কারণে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেক আগেই তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে অবাধে দেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া ফ্রান্সের জন্য বড় ভুল।

ট্রাম্প আরও বলেন, শিগগিরই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে। ইউরোপের দেশগুলো সীমান্ত বন্ধ না করলে এবং বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধে জড়িতদের বহিষ্কার না করলে মহাদেশটির পতন অনিবার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্যারিসের ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার ধর্মীয় গঠন নিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো পরিসংখ্যান বা স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ফ্রান্সে বিক্ষোভ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গত শনিবার প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এসব কর্মসূচি সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় দুই হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য আহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এ ছাড়া পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেডের আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। মুখোশ পরা কিছু দাঙ্গাকারী বিভিন্ন পৌর ভবন, পুলিশ স্টেশন ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালান বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

কারফিউ জারির ঘোষণা, জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত

সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সোমবার গভীর রাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন বড় শহরে আংশিক কারফিউ জারির ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। কয়েক দিনের বিক্ষোভ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারেও অবৈধ অভিবাসন বন্ধের বিষয়টিকে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় অভিবাসন নিয়ে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের সত্যতা ও সেগুলোর মাধ্যমে জাতিগত ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

সূত্র: এনডিটিভি