শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী
- আপডেট সময় : ০১:০০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। এদিন দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক বোধন ও পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
সারা দেশে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে উৎসবের আমেজ। প্রতিমা স্থাপন, মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে প্রায় শেষ হয়েছে। ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠছে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ।
দুর্গাপূজার বিভিন্ন তিথি ও আনুষ্ঠানিকতা
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী তিথি থাকায় এ সময় পূজার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পূজা করা হয়। দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি উদ্ভিদকে একত্র করে এ আচার পালন করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) উদযাপিত হবে মহাঅষ্টমী। এদিনের অন্যতম আকর্ষণ সন্ধিপূজা। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সন্ধিপূজা সম্পন্ন হয়।
এরপর মহানবমীতে দেবীর পূজার গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। ভক্তরা দেবীর উদ্দেশে ভোগ নিবেদন করবেন এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণ কামনা করে প্রার্থনা করবেন।
বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা। এদিন শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা নির্ধারিত নদী, পুকুর বা জলাশয়ে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হবে।
দেবীর আগমন ও গমন নিয়ে পঞ্জিকার ব্যাখ্যা
পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন। অন্যদিকে, নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে গমন করবেন দেবী। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকার ব্যাখ্যায় দেবীর আগমন ও গমনের বাহনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, দেবীর আরাধনার মধ্য দিয়ে মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর হয় এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
দুর্গাপূজার ছুটি পাঁচ দিন
হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা স্থাপন, প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পূজাকে আনন্দমুখর করতে আয়োজকেরা নানা আয়োজন করেছেন।
দুর্গাপূজার পেছনের পৌরাণিক কাহিনি
সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র ও পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, শরৎকালে দুর্গাপূজার সঙ্গে রামচন্দ্রের রাবণবধের কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, ত্রেতা যুগে রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ এবং সীতাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। এ পূজা অকালবোধন নামেও পরিচিত।
সেই পৌরাণিক কাহিনির ধারাবাহিকতায় শরৎকালে দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর ভক্তরা দেবী দুর্গার আরাধনার মাধ্যমে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয় কামনা করেন।
পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কথা রয়েছে।
পাশাপাশি, প্রায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে সারা দেশে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব।





















