ম্যারাডোনার মৃত্যুতে চিকিৎসায় অবহেলার মামলার রায় ২২ ডিসেম্বর
- আপডেট সময় : ০১:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
ম্যারাডোনার মৃত্যুতে চিকিৎসায় অবহেলার মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ২২ ডিসেম্বর। মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মামলায় আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন। ওই দিন জানা যাবে অভিযুক্ত সাত স্বাস্থ্যকর্মীর ভাগ্য।
ছয় মাসের বিচারপ্রক্রিয়া শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এদিনের শুনানিতে ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা ম্যারাডোনা এবং কয়েকজন আসামি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
মামলার মূল প্রশ্ন কী
অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ে ম্যারাডোনাকে হাসপাতালে না রেখে বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবহেলাজনিত ছিল কি না, এটাই মামলার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী ম্যারাডোনা। হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ফুসফুসে পানি জমার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। মস্তিষ্কে ছোট একটি অস্ত্রোপচারের পর বুয়েনস এইরেসের উত্তরে তিগ্রে এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি। সেখানেই নিজের বিছানায় মৃত অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়।
কারাদণ্ড চেয়েছেন কৌঁসুলিরা
গত এপ্রিলে শুরু হওয়া বিচারপ্রক্রিয়ায় ৭০ জনের বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাত আসামির মধ্যে ছয়জনের জন্য ৪ থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন কৌঁসুলিরা। সবচেয়ে বেশি ১২ বছরের দণ্ড চাওয়া হয়েছে ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মামলার প্রধান আসামি লিওপোলদো লুকের জন্য।
কৌঁসুলিদের যুক্তি, যে বাড়িতে চিকিৎসা চলছিল, সেখানে হাসপাতালের শয্যা, ডিফিব্রিলেটর কিংবা দ্রুত পৌঁছাতে সক্ষম অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সুবিধা ছিল না। তাঁদের মতে, এসব ঘাটতিই দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ।
চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য
আদালতে কয়েকজন চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ বলেন, ম্যারাডোনার পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তাঁর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ শনাক্ত করার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার শরীরে পানি জমেছিল, হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত ছিল এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।
লুকের পাল্টা দাবি
গত বুধবার সমাপনী যুক্তিতর্কে লুকের আইনজীবীরা প্রসিকিউশনের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, ম্যারাডোনার মৃত্যু আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব ছিল। লুকের আইনজীবীদের দাবি, এই মামলায় তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে।
নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টার অভিযোগও একাধিকবার তুলেছেন লুকে। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে অডিও রেকর্ডিং, বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ এবং ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের একটি ভিডিও উপস্থাপন করেন। এসব উপস্থাপনায় ক্ষুব্ধ হন প্রয়াত ফুটবলারের মেয়েরা।
আদালতে লুকে বলেন, ‘আমি নির্দোষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ম্যারাডোনার সঙ্গে আমার সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ ছিল বলে আমাকে আক্রমণ করা সহজ।’ ম্যারাডোনার সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একমাত্র ডিয়েগোই আমাকে রক্ষা করতেন।’ তাঁকে গভীরভাবে যত্ন নিতেন ও ভালোবাসতেন বলেও জানান লুকে।
মেয়ের আবেদন
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে দালমা ম্যারাডোনা আদালতে বলেন, ‘আমি আশা করি, আমার বাবা তাঁর প্রাপ্য ন্যায়বিচার পাবেন, যেমনটা অন্য যে কারও পাওয়া উচিত।’


























