মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান মৎস্যমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৩:১২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, সাময়িকভাবে মাছ ধরা বন্ধ রাখলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দাসাদী বড় খান বাড়ির মাঠে আয়োজিত ভিজিএফের চাল বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৎস্য অধিদপ্তর, চাঁদপুর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী জেলেদের উদ্দেশে বলেন, ‘বুকে হাত দিয়ে বলুন, কোনো ইলিশ ধরব না।’ মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেলেদের খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব
মৎস্য খাতে সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, মৎস্য অভিযানকে কেন্দ্র করে সরকার প্রতিবছর জেলেদের বিপুল পরিমাণ খাদ্যসহায়তা দেয়। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে শুধু সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না থেকে জেলেদের বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে খাঁচায় ভাসমান মাছ চাষের মতো আধুনিক পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, বিকল্প পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার সময়েও জেলেদের আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নিজের পরিচয় তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কৃষকের সন্তান বলতে গর্ববোধ করি।’ কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতের মানুষের উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
চাঁদপুরের ইলিশসম্পদ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
চাঁদপুরের মৎস্যসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ উৎপাদন, নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে এ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ সম্পদ সংরক্ষণ করা গেলে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের পথও সুগম হবে।
তিনি আরও বলেন, জেলেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ শুধু মৎস্য অধিদপ্তর বা প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। এ সম্পদ রক্ষায় জেলে, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। চাঁদপুরের পরিচিতি ও অর্থনীতির সঙ্গেও এ মাছের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পদ্মা-মেঘনার ইলিশকে কেন্দ্র করে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। তাই মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে মেনে চলা জরুরি। আজকের সাময়িক সংযম ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জীবন-জীবিকা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ভিজিএফের খাদ্যসহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।
তিনি নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে ইলিশ ধরা, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মৎস্যজীবী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদারে বিকল্প কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান।
চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সদর উপজেলা মসজিদের ইমাম মোজাহিদ ইসলাম।
এ সময় চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সালিম উল্লাহ সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল সিদ্দিক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য পদ্মা-মেঘনাসহ নির্ধারিত নদ-নদীতে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
এ সময়ে নিষিদ্ধ এলাকায় ইলিশ ধরা বন্ধ রাখার পাশাপাশি মাছ পরিবহন, মজুত ও বিপণনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।





















