ভোট চুরির অভিযোগ: মোদি-শাহকে তদন্তের আওতায় আনার দাবি রাহুল গান্ধীর
- আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৬ বার পড়া হয়েছে
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন রাহুল।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি প্রমাণসহ ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে আসছেন। এবার নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর তার অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচন কমিশনারদের আপত্তির প্রসঙ্গ
রাহুল গান্ধীর সংবাদ সম্মেলনের এক দিন আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার গত ১০ মাসে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশনা নিয়ে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন।
বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নতুন ভোটারদের নিবন্ধনের ফর্মে পরিবর্তন নিয়ে আপত্তির বিষয়টি সামনে আসে। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও নির্বাচন কমিশন বলেছে, গত এক বছরে কমিশনের সব সিদ্ধান্ত পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই নেওয়া হয়েছে।
মোদি-শাহের তদন্ত দাবি
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের রাজনৈতিক বক্তব্যেও বিজেপির দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার প্রত্যাশার কথা উঠে এসেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিভিন্ন রাজ্যে সাধারণত ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যে জনমত তৈরি হয়, বিজেপির ক্ষেত্রে সেটি কেন একইভাবে দেখা যাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উদাহরণও টানেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থাতেও ইন্দিরা গান্ধী নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিজেপির ক্ষেত্রে ক্ষমতাবিরোধী জনমতের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধী দলগুলো ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেবে। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সংসদের উভয় কক্ষে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতিও চলছে।
তবে এসব অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত। নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপটে তাদের সিদ্ধান্তগুলোকে পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য কুইন্ট, রেডিফ





















