০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বৈধ পণ্যকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিপুল পরিমান পণ্য লুটের অভিযোগ

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৫২৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বৈধ পণ্যকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে গ্রাহকের বুকিংকৃত বিপুল পরিমান পণ্য হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে কুমিরা কোস্টগার্ডের কতিপয় অতি উৎসাহী সদস্যদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকা থেকে এসএ পরিবহনের একটি জরুরী ডাকবাহী কাভার্ডভ্যান আটকে সেখান থেকে এই বিপুল পরিমাণ পণ্য লুটে নেন তারা। ঘটনা জানাজানি হলে দুই দিন নানান নাটকিয়তার পর অল্পকিছু পণ্য উদ্ধার দেখিয়ে কাস্টমসে জমা দিয়েছে কোস্টগার্ড। গত দুই দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে চট্টগ্রামে। পণ্যের মালিকের দাবি কুমিল্লা থেকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিলামে কেনা পণ্যগুলোর যথাযথ ডকুমেন্ট উপস্থাপন করলেও তা আমলে নেয় নি কোস্টগার্ড। আর এসএ পরিবহনের দাবি, তল্লাসীর নামে ডাকবাহী একটি গাড়ি ড্রাইভার হেলপারসহ দুই দিন ধরে আটকে রেখে বিপুল পরিমান পণ্য লুটে নিয়ে কোন রকমের সিজার লিস্ট না দিয়েই অস্ত্রের মুখে কর্মকর্তাদের জিম্মি করে সাদা কাগজে স্মাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যা প্রচলিত চুরি ডাকাতিকেও হার মানিয়েছে।

প্রতিদিনের মতো গেল শনিবার রাতেও এসএ পরিবহনের চট্টগ্রামের বিভাগীয় প্রধান কার্যলয় থেকে গ্রাহকের বুকিং করা ডাক-ডকুমেন্ট-প্যাকেট-পার্শ্বেল নিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান রওনা করে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে। সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকা পৌছলে অস্ত্রের মুখে গাড়িটির গতি রোধ করে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ফিরোজের (লাল গোল চিহ্নিত ব্যক্তি) নেতৃত্কে অতিউৎসাহী কতিপয় সদস্য। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ডাকবাহী গাড়িটি নিয়ে যাওয়া হয় কুমিরা কোস্টগার্ড অফিসে।

গভির রাতে তল্লাসীর নামে গাড়ির সমস্ত মালামাল নামিয়ে কেটে ছিড়ে লন্ডভন্ড করা হয় খোলা মাঠে। একপর্যায়ে গাড়িতে থাকা ৫৪ টি প্লাস্টিক বস্তা কাপড়ের পার্শ্বেল ও বিভিন্ন মেমোতে বুকিং হওয়া ১৪ টি সিগারেটের কার্টুন অবৈধ আখ্যা দিয়ে নামিয়ে রাখে তারা। এরই মধ্যে এসএ পরিবহনের কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় নানান নাটকিয়তা। গ্রাহকের কাছ থেকে মালামালের পক্ষের সমস্ত ডকুমেন্ট (পিকচার ১ ও ২) দেখানো হলেও তারা তা আমলে নেয়নি।

প্রতিবাদের মুখে ভোররাতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের একটি টিমকে ডেকে এনে পুলিশের কাছে গছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে কোস্টগার্ড। পুলিশ সদস্যরা ডকুমেন্টগুলো যাচাই বাছাই করে সত্যাতা পেয়ে কোস্টগার্ডের এই অনৈতিক কাজের সঙ্গী হতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় গনমাধ্যমকর্মীদেরও সেখানে ঢুকতে দেয়া হয়নি। রোববার বিকেল পর্যন্ত বিপুল পরিমান মালামাল লুটে নেয়ার পর নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে নানান নাটকিয়তা শেষে সামান্য কিছু পণ্য (পিকচার ৩) দিয়ে শুল্কোফাঁকির অভিযোগ তুলে কাস্টমকে জমা দেয় কোস্টগার্ড। বারবার দাবি করা হলেও কোন সিজারলিস্ট এসএ পরিবহনকে দেয়া হয়নি।

পণ্যের মালিক ও প্রেরক জানান, বুকিং করা পার্শ্বেলে থাকা পণ্যগুলো কুমিল্লা থানা থেকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে নিলামে ক্রয় করেছেন তারা। এ সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট (পিকচার ১ ও ২) দেখালেও অতিউৎসাহী কোস্টগার্ড সদস্যরা তা আমলে নেয়নি। মুলত পুরো পণ্য আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই এই কথিত অভিযান চালানো হয়েছিলো বলে দাবি করেন। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

সিনিয়র আইজীবীদের দাবি, রাষ্ট্রের যে কোন বাহিনী কোন পণ্য জব্দ করতে হলে তা অবশ্যয় প্রকাশ্যে সিজারলিষ্ট করে স্থানীয়দের স্বাক্ষ্য নিয়ে একটি কপি যার বা যে প্রতিষ্ঠান থেকে জব্দ করা হচ্ছে তাকে বুঝিয়ে দেয়া বাধ্যতামুলক। এর ব্যত্যয় ঘটলে বুঝতে হবে অভিযান পরিচালনাকারীর উদ্দেশ্য অন্যকিছু। এছাড়া কোস্টগার্ডের সুনির্দিষ্ট কাজ সমুদ্রে। সমুদ্র অরক্ষিত রেখে মহাসড়কে অভিযান চালানোর উদ্দেশ্য নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

এসএ পরিবহনের দাবি, গত কয়েকদিন আগে কোস্টগার্ডের পোষাকধারী কয়েকজন সদস্য খাতুনগঞ্জ অফিসে গিয়ে অবৈধ পণ্য আছে দাবি করে কয়েক ঘন্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়ে অফিসে থাকা গ্রাহকদের বিভিন্ন প্যাকেট পার্শ্বেল কেটে ছিড়ে তছনছ করে পুরো অফিসে ভিতি সৃষ্টি করে। কিন্তু কিছু না পেয়ে প্রতিবাদের মুখে পরে দু:খপ্রকাশ করে চলে যায়। এরপর থেকেই উদ্দেশ্যমুলকভাবে সাদা পোষাকের কথিত সোর্স লাগিয়ে রেখেছে এসএ পরিবহনের বিভিন্ন অফিসের সামনে। এভাবেই গ্রাহকের আমানত লুট করার মহোৎসবে মেতেছে কোস্টগার্ডের সদস্যরা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

গুরুত্বপূর্ণ লিংক সমুহ


Warning: Attempt to read property "post_status" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2309

Warning: Attempt to read property "post_status" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2313

Warning: Attempt to read property "post_status" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2319

Warning: Attempt to read property "post_status" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2323

Warning: Attempt to read property "ID" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2327

Warning: Attempt to read property "post_status" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2331

Warning: Attempt to read property "ID" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2345

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বৈধ পণ্যকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিপুল পরিমান পণ্য লুটের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বৈধ পণ্যকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে গ্রাহকের বুকিংকৃত বিপুল পরিমান পণ্য হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে কুমিরা কোস্টগার্ডের কতিপয় অতি উৎসাহী সদস্যদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকা থেকে এসএ পরিবহনের একটি জরুরী ডাকবাহী কাভার্ডভ্যান আটকে সেখান থেকে এই বিপুল পরিমাণ পণ্য লুটে নেন তারা। ঘটনা জানাজানি হলে দুই দিন নানান নাটকিয়তার পর অল্পকিছু পণ্য উদ্ধার দেখিয়ে কাস্টমসে জমা দিয়েছে কোস্টগার্ড। গত দুই দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে চট্টগ্রামে। পণ্যের মালিকের দাবি কুমিল্লা থেকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিলামে কেনা পণ্যগুলোর যথাযথ ডকুমেন্ট উপস্থাপন করলেও তা আমলে নেয় নি কোস্টগার্ড। আর এসএ পরিবহনের দাবি, তল্লাসীর নামে ডাকবাহী একটি গাড়ি ড্রাইভার হেলপারসহ দুই দিন ধরে আটকে রেখে বিপুল পরিমান পণ্য লুটে নিয়ে কোন রকমের সিজার লিস্ট না দিয়েই অস্ত্রের মুখে কর্মকর্তাদের জিম্মি করে সাদা কাগজে স্মাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যা প্রচলিত চুরি ডাকাতিকেও হার মানিয়েছে।

প্রতিদিনের মতো গেল শনিবার রাতেও এসএ পরিবহনের চট্টগ্রামের বিভাগীয় প্রধান কার্যলয় থেকে গ্রাহকের বুকিং করা ডাক-ডকুমেন্ট-প্যাকেট-পার্শ্বেল নিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান রওনা করে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে। সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকা পৌছলে অস্ত্রের মুখে গাড়িটির গতি রোধ করে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ফিরোজের (লাল গোল চিহ্নিত ব্যক্তি) নেতৃত্কে অতিউৎসাহী কতিপয় সদস্য। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ডাকবাহী গাড়িটি নিয়ে যাওয়া হয় কুমিরা কোস্টগার্ড অফিসে।

গভির রাতে তল্লাসীর নামে গাড়ির সমস্ত মালামাল নামিয়ে কেটে ছিড়ে লন্ডভন্ড করা হয় খোলা মাঠে। একপর্যায়ে গাড়িতে থাকা ৫৪ টি প্লাস্টিক বস্তা কাপড়ের পার্শ্বেল ও বিভিন্ন মেমোতে বুকিং হওয়া ১৪ টি সিগারেটের কার্টুন অবৈধ আখ্যা দিয়ে নামিয়ে রাখে তারা। এরই মধ্যে এসএ পরিবহনের কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় নানান নাটকিয়তা। গ্রাহকের কাছ থেকে মালামালের পক্ষের সমস্ত ডকুমেন্ট (পিকচার ১ ও ২) দেখানো হলেও তারা তা আমলে নেয়নি।

প্রতিবাদের মুখে ভোররাতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের একটি টিমকে ডেকে এনে পুলিশের কাছে গছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে কোস্টগার্ড। পুলিশ সদস্যরা ডকুমেন্টগুলো যাচাই বাছাই করে সত্যাতা পেয়ে কোস্টগার্ডের এই অনৈতিক কাজের সঙ্গী হতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় গনমাধ্যমকর্মীদেরও সেখানে ঢুকতে দেয়া হয়নি। রোববার বিকেল পর্যন্ত বিপুল পরিমান মালামাল লুটে নেয়ার পর নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে নানান নাটকিয়তা শেষে সামান্য কিছু পণ্য (পিকচার ৩) দিয়ে শুল্কোফাঁকির অভিযোগ তুলে কাস্টমকে জমা দেয় কোস্টগার্ড। বারবার দাবি করা হলেও কোন সিজারলিস্ট এসএ পরিবহনকে দেয়া হয়নি।

পণ্যের মালিক ও প্রেরক জানান, বুকিং করা পার্শ্বেলে থাকা পণ্যগুলো কুমিল্লা থানা থেকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে নিলামে ক্রয় করেছেন তারা। এ সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট (পিকচার ১ ও ২) দেখালেও অতিউৎসাহী কোস্টগার্ড সদস্যরা তা আমলে নেয়নি। মুলত পুরো পণ্য আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই এই কথিত অভিযান চালানো হয়েছিলো বলে দাবি করেন। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

সিনিয়র আইজীবীদের দাবি, রাষ্ট্রের যে কোন বাহিনী কোন পণ্য জব্দ করতে হলে তা অবশ্যয় প্রকাশ্যে সিজারলিষ্ট করে স্থানীয়দের স্বাক্ষ্য নিয়ে একটি কপি যার বা যে প্রতিষ্ঠান থেকে জব্দ করা হচ্ছে তাকে বুঝিয়ে দেয়া বাধ্যতামুলক। এর ব্যত্যয় ঘটলে বুঝতে হবে অভিযান পরিচালনাকারীর উদ্দেশ্য অন্যকিছু। এছাড়া কোস্টগার্ডের সুনির্দিষ্ট কাজ সমুদ্রে। সমুদ্র অরক্ষিত রেখে মহাসড়কে অভিযান চালানোর উদ্দেশ্য নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

এসএ পরিবহনের দাবি, গত কয়েকদিন আগে কোস্টগার্ডের পোষাকধারী কয়েকজন সদস্য খাতুনগঞ্জ অফিসে গিয়ে অবৈধ পণ্য আছে দাবি করে কয়েক ঘন্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়ে অফিসে থাকা গ্রাহকদের বিভিন্ন প্যাকেট পার্শ্বেল কেটে ছিড়ে তছনছ করে পুরো অফিসে ভিতি সৃষ্টি করে। কিন্তু কিছু না পেয়ে প্রতিবাদের মুখে পরে দু:খপ্রকাশ করে চলে যায়। এরপর থেকেই উদ্দেশ্যমুলকভাবে সাদা পোষাকের কথিত সোর্স লাগিয়ে রেখেছে এসএ পরিবহনের বিভিন্ন অফিসের সামনে। এভাবেই গ্রাহকের আমানত লুট করার মহোৎসবে মেতেছে কোস্টগার্ডের সদস্যরা।