বিজয়া দশমীতে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন বুধবার। বিজয়া দশমীতে পূজা-অর্চনা, সিঁদুর খেলা, বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে ছয় দিনের দুর্গোৎসব। সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর দেবী দুর্গাকে সিঁদুর দিয়ে বরণ এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালনের পর বিকেলে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
গত শুক্রবার দেবীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। ষষ্ঠী থেকে মহানবমী পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনগুলো উদ্যাপন করেছেন ভক্তরা।
ঢাকায় বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জন
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, আজ সকাল ৯টায় দশমী বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন হবে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর দিয়ে বরণ করা হবে। এরপর শুরু হবে সিঁদুর খেলা। এ আয়োজন চলবে বেলা দেড়টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। একই সময়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হবে।
দুপুরের পর শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। বেলা ৩টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আনা হবে। পরে ঢাকার ১১টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
পূজা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর রাজধানী ঢাকার ২৫৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
মহানবমীতে শান্তি ও মঙ্গল কামনা
বিজয়া দশমীর আগে গতকাল মঙ্গলবার মহানবমীতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় তাঁরা পূজা ও অঞ্জলি দেন। সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণ মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, ঢাক ও কাঁসর ঘণ্টার শব্দে মুখর হয়ে ওঠে।
সকাল সোয়া ১০টার দিকে মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে ভক্তদের মধ্যে অঞ্জলির ফুল ও বেলপাতা বিতরণ করা হয়। সোয়া ১১টার দিকে অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে পূজার এ পর্ব শেষ হয়। পূজার পাশাপাশি মন্দির প্রাঙ্গণে বসে মেলা। সেখানে গৃহস্থালির সামগ্রী, চুড়ি, গয়না, পোশাক ও শিশুদের খেলনাসহ নানা পণ্য বিক্রি হয়।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পূজা দিতে আসা সরকারি কর্মকর্তা অজিত দেব বলেন, সন্তানদের নিয়ে পূজায় অংশ নেওয়া শুধু ধর্মীয় আচার পালনের বিষয় নয়, বরং তাদের কাছে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরারও একটি সুযোগ। তিনি সবার জীবনে শান্তি, সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করেন।
সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশা
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উপদেষ্টা অরূপরতন চৌধুরী বলেন, মহালয়া থেকে শুরু করে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী ও মহানবমী পর্যন্ত দুর্গোৎসবের প্রতিটি পর্ব ভালোভাবে উদ্যাপন করা গেছে। এ জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, মা দুর্গা দুর্গতি নাশ ও অসুর বিনাশের প্রতীক। দেবীর কাছে মানুষের অশুভ প্রবৃত্তি ও অশান্তি দূর হওয়ার প্রার্থনা করেন তাঁরা। দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকা এবং সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি অটুট থাকাই তাঁদের প্রত্যাশা।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাস চক্রবর্তী বলেন, ভক্তরা দেবীর কাছে নিজেদের নানা অভিপ্রায় ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেছেন। তবে আনন্দ-উৎসবের পর দেবীকে বিদায় জানাতে হওয়ায় ভক্তদের মনে বিষাদেরও সৃষ্টি হয়।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। একই সঙ্গে শুরু হবে আগামী বছরের দুর্গাপূজার অপেক্ষা।




















