বাংলাদেশকে নিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট
- আপডেট সময় : ১২:২০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩০ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বিমান বহরে নতুন করে ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার চুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্পের পোস্টের বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বোয়িংয়ের বড় অঙ্কের বিক্রি এবং বিপুল পরিমাণ মার্কিন রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার মার্কিনির কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করবে।
মার্কিন উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প
ট্রাম্প তার পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন এবং সেখান থেকে পণ্য রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি এবং মার্কিন শ্রমিকদের সমর্থন করা হলে প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও শ্রমশক্তিনির্ভর নীতির প্রশংসা করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যে মূলত বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বিক্রির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পখাত, রপ্তানি এবং কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বিমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য একটি সম্পূরক চুক্তি সই করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কিনবে।
নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আরও আধুনিক হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো এবং পুরোনো উড়োজাহাজের পরিবর্তে আধুনিক উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ধারাবাহিক চুক্তি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বহর আধুনিকায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে একাধিক চুক্তি হয়েছে। সর্বশেষ ১১টি উড়োজাহাজের চুক্তির মাধ্যমে বিমানের বহরে ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হলো।
এর মধ্যে ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের উপযোগী। অন্যদিকে বোয়িং ৭৩৭-৮ স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাত্রীসেবা ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্কেও গুরুত্ব
বাংলাদেশের বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, উড়োজাহাজ কেনার মতো বড় ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত।
ট্রাম্পের পোস্টেও সেই বিষয়টিই সামনে এসেছে। তিনি বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বিক্রিকে মার্কিন রপ্তানি বৃদ্ধির একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এ চুক্তির প্রধান দিক হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রুটে কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মধ্যেই নতুন এই বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। ফলে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের আলোচনাতেও গুরুত্ব পেয়েছে।





















